ওয়ানডে সিরিজটা শুরু হতে যাচ্ছে। ওয়ানডে ক্রিকেট কী আমাদের একটু স্বস্তির একটা জায়গা?
ঠিক ‘কমফোর্ট জোন’ বলবো না। তবে আমার কাছে মনে হয় ওয়ানডেতে আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী একটা দল। বেশ কয়েকটা সিরিজ, বেশ কয়েকটা ম্যাচে আমরা ভালো খেলছি। আসলে টি-টোয়েন্টি আমরা খুব কম খেলি। আমরা হয়তো বছরে একটাও খেলি। এটা আসলে বলার জন্য বলা না। নিয়মিত খেললে এবং ভালো করলে টি-টোয়েন্টিতেও আমাদের স্বস্তির একটা জায়গা।
টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারটা কী আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলবে?
যে কোনো সিরিজ হার দিয়ে শুরু হলে এটা তো ভালো জিনিস না। তবে ওয়ানডের যে ব্যাপারটা হলো আমরা গত এক বছর ধরে যেভাবে পারফরম্যান্স করছি, গেমটাকে যেভাবে প্লেয়াররা বুঝতে পারছে; তাতে আত্মবিশ্বাস ভালোই থাকার কথা। আর দুটো হারে কখনো সব শেষ হয়ে যেতে পারে না।
ওয়ানডেতে তো ব্যাটিং পাওয়া প্লে থাকছে না। এটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগবে?
আমরা এটা নিয়ে সময় পাইনি। দুইটা তিনটা ম্যাচ সময় তো লাগবেই। তবে ব্যাপারটা আসলে ম্যাচ না খেলা পর্যন্ত পুরো বোঝা যাবে না।
টানা খেলাজনিত ক্লান্তিতে ভুগছেন খেলোয়াড়রা?
ক্লান্তি কোনো ফ্যাক্টর হওয়া উচিত না। আমরা পেশাদার একটি দল। সবাই সবার দায়িত্ব বুঝে। আমারটা আমার বুঝতে হবে। আমি চেষ্টা করি নতুন একটি ম্যাচের আগে যতোটা সম্ভব স্ট্রং থাকার। সবাই সেভাবেই চেষ্টা করে। ক্লান্তি এখানে কোনো বিষয় নয়। আমরা যদি হারি, তারপরই এ ধরনের কথা ওঠে।
ওদের স্পিনারদের কী আমাদের চেয়ে বেশি কার্যকর মনে হয়েছে?
আমি এখনও বিশ্বাস করি, সব সময় বিশ্বাস করব ওদের স্পিনারের চেয়ে আমাদের স্পিনাররা যে কোনো দিন ভালো করবে। যদি তুলনা করতে বলেন তাহলে আমি আমাদের স্পিনারদের পাঁচ-ছয় গুণ এগিয়ে রাখব। এটা আমার বিশ্বাস। যেমন সাকিবও বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার; বোলারদের র্যাংকিংয়েও ১০-এর ভেতরেই আছে। এটা ঠিক সামপ্রতিক সময়ে সময়ে ইমরান তাহির খুব ভালো করছে। বিশ্বকাপেও খুব ভালো পারফরম করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। যেখানেই খেলছে ভালো করছে। ওকেও আমাদের খুব সতর্কভাবে সামলাতে হবে। লেগ স্পিনার একটি অ্যাটাকিং অপশন থাকে যে কোনো দলের জন্য। তাছাড়া ওর অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এখানে ভালো করেছিল। ওদের শুধু স্পিন না পেস বোলিং আক্রমণও খুব ভালো। ওদের খুব ভালোভাবে সামলাতে হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলিংটা কী খুব ভয়ঙ্কর?
আমার কাছে মনে হয়েছে ওদের পেসাররা ম্যাচে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। ওদের স্পিনাররাই মূল প্রভাব ফেলেছে। ওই দুই স্পিনারই দুই ম্যাচে বেশি উইকেট পেয়েছে। ওদের পেসাররাও খুব ভালো লাইন লেন্থ বজায় রেখে খেলেছে। উইকেটও একটু আলাদা ছিলো। পাকিস্তান সিরিজে আমাদের যে কৌশল ছিলো, এবার একটু আলাদা। পাকিস্তান তো উপমহাদেশে খেলে অভ্যস্ত, তাই তাদের সাথে অন্য রকম পরিকল্পনা ছিলো। দুটি ম্যাচেই আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করেছি। সুতরাং আমাদের দেখার বিষয় ছিলো যে, দ্বিতীয় ইনিংসে ওরা কেমন ব্যাটিং করে। দুটি ম্যাচেই দ্বিতীয় ইনিংসে বল ঘুরেছে। দেখা যাক সামনে কী হয়। আমি জানি না ওয়ানডেতে কেমন উইকেট হবে। আমার মনে হয় টিম ম্যানেজমেন্ট চিন্তাভাবনা করেই উইকেট বানাবেন।
সৌম্যর সঙ্গে ওপেন করাটা কেমন উপভোগ করছেন?
আমি আমার খেলাটা এনজয় করছি। কারণ দুই পাশ থেকেই যদি রান তাড়াতাড়ি আসে। তাহলে বোলারদের কাজটা কঠিন হয়ে যায়। ক্রিকেট এমন জিনিস, হয়তো একদিন আমার খুব ভালো টাইমিং হবে, কাল একদিন আরেকজনের হবে। এভাবেই জুটি হয়। যখন আমার টাইমিং হয় না, শেষ টি-টোয়েন্টিতে ও রান তুলছিলো, ওর কারণেই ৫ ওভারে ৪৬ ছিলাম। একটা খুব ভালো জুটি। কাল হয়তো অন্য রকম হবে। দুই পাশ থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেললে এই সুবিধাটা পাওয়া যায়। সৌম্য যেভাবে ব্যাটিং করে, সেটা আমি খুব পছন্দ করি। আমি ওকে বলেছি, ও যেভাবে শুরু করে, সেটা যদি বড় করতে পারে, তবে সেটা ওর ক্যারিয়ারের জন্য খুব ভালো হবে।
