দক্ষিণ আফ্রিকানদের মাধ্যমেই আধুনিক ক্রিকেটে ফিল্ডিংটা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। বাকি দলগুলোও অনুধাবন করতে পেরেছে ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে দুর্দান্ত ফিল্ডিং। জন্টি রোডস, হার্শেল গিবসরাই ক্রিকেট দুনিয়াকে চিত্তাকর্ষক ফিল্ডিংটা দেখিয়েছেন।
বাংলাদেশের বর্তমান ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুকও দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষ। গ্যারি কারস্টেনের একাডেমি থেকে গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলের মাঝেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন কুক।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনো বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিংয়ে ধারাবাহিকতা নেই। এক ম্যাচে ভালো তো পরের ম্যাচে ক্যাচ মিসের মহড়া শুরু হয়ে যায়। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টেও ছয়-সাতটি ক্যাচ ফেলেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। রায়ান কুক বলছেন, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শেখার আগ্রহ আছে। তার আশা, চোখের সামনে রোডস-গিবসের মতো নায়ক দেখতে পেলে বাংলাদেশের ফিল্ডিংও নতুন উচ্চতায় যাবে। আর দলের মাঝে এমন দুরন্ত ফিল্ডার তৈরির চেষ্টাই করছেন কুক।
গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডারদের পার্থক্য জানতে চাইলে কুক বলেছেন, ‘ফিল্ডিং নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি খুশিই। ওদের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে ফিল্ডিংয়ের মানের কথা বললে, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাপারটি হলো, সেখানে অনেকের উদাহরণ আছে সামনে। কেউ হয়ত জন্টি রোডস বা হার্শেল গিবসের মতো হতে চায়। আর এখানকার ক্রিকেটাররা সেই জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। ওদের তাই ভালো থেকে আরও ভালো হতে হবে।’
বাংলাদেশের ফিল্ডারদের সামর্থ্য আছে বলে মনে করেন কুক। চোখের সামনে বড় উদাহরণ না থাকলেও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিল্ডিং দল হতে চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে জানিয়ে এই কোচ বলেছেন, ‘সামনে কোনো নায়ক না থাকা তাই একটি ব্যাপার। আমি চাই, নিজেদের মানদণ্ড ওরা নিজেরা তৈরি করুক, অবশ্যই ওদেরকে চেষ্টা করতে হবে বিশ্বের সেরা ফিল্ডিং দল হতে। আমার কোনো সংশয়ই নেই যে এই সামর্থ্য ওদের আছে।’
ফিল্ডিংয়ে উন্নতি আনতে কুকের চেষ্টা সবার চোখে পড়েছে। এশিয়া কাপের পর জাতীয় দলের এক সিনিয়র ক্রিকেটার বলছিলেন, কুক ভালো কাজ করছে। প্রতি ম্যাচের পর রানিং, ক্যাচ ধরা, থ্রো করা সার্বিক ফিল্ডিংয়ে প্রত্যেকের গতি, পারফরম্যান্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেন এই প্রোটিয়া কোচ। কারো পারফরম্যান্স ৮০ ভাগের কম হলেই তাকে নিয়ে আলাদা কাজ করেন কুক। সেটা নিয়মিত ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং কাজের আগেই। এছাড়া কোচ-অধিনায়ক অবহিত করে তরুণদের ফিল্ডিংয়ে উন্নতি আনতেও বাড়তি কাজ করেন কুক।
মিরপুর টেস্টে অনেক ক্যাচ ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় শুরুতে কিছু সুযোগ ছিল খুব কঠিন। প্রথম টেস্টে আমরা ৯০ ভাগ ক্যাচ নিয়েছি। যা আমার মতে অসাধারণ-অনেকটাই বিশ্ব মানের। দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা কিছু কঠিন সুযোগ হাতছাড়া করেছি। পরে ছেলেরা বলেছে তারা কঠোর পরিশ্রম করতে রাজি ক্যাচিং নিয়ে, যাতে এমনটা আর না হয়।’
ইনজুরি কাটিয়ে উঠা সাকিব আল হাসানের ক্যাচিংয়ে কোনো সমস্যা দেখছেন না কুক। তিনি বলেছেন, ‘আমি হাই ক্যাচিং দেখিনি। কারণ আমি কভারে ক্যাচিং করাচ্ছিলাম। এবং সে ভালো ক্যাচ নিয়েছে।’
ইত্তেফাক/কেআই
