সেই চিরচেনা লড়াই

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৫, ০০:১৮

প্রাণের টানে ঈদে গ্রামের বাড়ি যেতে হবে, এ জন্য কষ্টতো একটু করতেই হবে। তাই সাহরি খেয়েই সরাসরি কমলাপুর রেল স্টেশন। কিন্তু দেখলাম শুধু আমি একাই নয়, আমার মতো কয়েকশ’ লোক লাইনে দাঁড়িয়ে। এরপর প্রায় ৬ ঘন্টা প্রতীক্ষার পর হাতে পাওয়া গেল কাঙ্ক্ষিত সেই টিকিট। টিকিট পেয়ে ভীষণ আনন্দ লাগছে। ফোন করে বিষয়টি বাসায় জানিয়ে দিয়েছি।

 
এভাবে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন রংপুরের আনোয়ার হোসেন। তিনি কিনেছেন চারটি টিকিট। বললেন, ভিড় সেই আগের মতোই, তবে এবারের পরিবেশটা অনেকটা ভাল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির ফলে নেই কালোবাজারি উত্পাত। তবে কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ালে সমস্যাটা কম হতো। প্রায় একই কথা বললেন চট্টগ্রামের টিকিট পাওয়া পারভীন বেগম। তিনি বলেন, খুব ভোরে এসেছিলাম, তারপরও দেখি প্রায় শতাধিক মানুষের পেছনে আমি। তবে কষ্ট হলেও টিকিট পাওয়া গেছে, এবার বাড়ি ফেরার পালা।
 
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার কমলাপুর রেল স্টেশন পরিদর্শনকালে রেলযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক। গতকাল সকাল দশটায় তিনি কমলাপুর স্টেশনে অগ্রিম টিকিটের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। শোনেন তাদের নানা অভিযোগ। এরপর কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। অপর দিকে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি।
 
ঈদ সামনে রেখে গতকাল থেকে ঢাকার কমলাপুর ও চট্টগ্রাম স্টেশনসহ দেশের বিভিন্ন স্টেশনে শুরু হয়েছে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি। সকাল নয়টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দেয়া হয় ১৩ জুলাইয়ের টিকিট। আজ বিক্রি করা হবে ১৪ জুলাইয়ের টিকিট। পর্যায়ক্রমে পাঁচ দিন ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে ১১ জুলাই ১৫ জুলাইয়ের টিকেট, ১২ জুলাই ১৬ জুলাইয়ের টিকেট এবং সর্বশেষ ১৩ জুলাই বিক্রি হবে ১৭ জুলাইয়ের টিকিট।
 
কামাল হোসেন বুধবার সন্ধ্যার পর আসেন কমলাপুর স্টেশনে । যাবেন স্বপরিবারে চট্টগ্রামে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গতকাল বেলা ১১টার দিকে তিনি টিকিট হাতে পেয়েছেন। তিনি আরো বলেন, তার মতো অনেকেই ট্রেনের টিকিটের অপেক্ষায় বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় কমলাপুর রেলস্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। অনেকে ইফতার ও সাহরি খেয়েছেন স্টেশনে।
 
রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি এস এম রুহুল আমিন বলেন, টিকিট বিক্রির প্রথম দিন ভালই গেছে। কমলাপুর স্টেশন থেকে কোনো কালোবাজারি গ্রেফতার হয়নি। তবে চট্টগ্রাম ও সিলেট স্টেশন থেকে দুই কালোবাজারিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
 
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান বলেন, প্রতিবছর যে ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায় তেমন কোন অভিযোগ গতকাল পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, প্রতিদিনই কমলাপুর স্টেশন থেকে প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করবে। যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম ঠেকাতে মোতায়েন করা হয়েছে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
 
রেলপথমন্ত্রীর বক্তব্য
 
কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনকালে রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, এবার ঈদে রেলের শতভাগ সক্ষমতা ব্যবহার করে যাত্রীদের আনা-নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, ট্রেনের সময়সূচিতে যাতে কোন ধরনের বিপর্যয় না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। সময়সূচি বিপর্যয় কোনোভাবেই মানা যায় না। সময়সূচি বিপর্যয় ঠেকাতে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে। রেলপথমন্ত্রী ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের না চড়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ট্রেনের ছাদে চলাচল করা বেআইনি।
 
র্যাবের ক্যাম্প
 
র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ঈদে ঘরেফেরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লঞ্চঘাট ও বাস টার্মিনালগুলোতে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করবে র্যাব। গতকাল বেলা ১১টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।
 
বিআরটিসির অগ্রিম টিকিট : আজ শুক্রবার সকাল থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করবে বিআরটিসি। বিআরটিসির মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর দ্বিতল বাস ডিপো, গাজীপুর বাস ডিপো, নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো ও ঢাকার ফুলবাড়িয়া থেকে যাত্রীরা অগ্রিম টিকিট কিনতে পারবেন।
 
বিআরটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ঘরমুখী যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১৪ থেকে ২০ জুলাই বিআরটিসির বাসে ঈদের বিশেষ সেবা দেয়া হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য থাকবে ৫০০ বাস। এরপর যদি কোন ধরনের সমস্যা হয় সে জন্য আরও ৫০টি বাস রিজার্ভ রাখা হবে।
 

তিনি আরো বলেন, যাত্রী সুবিধার্থে বিআরটিসির প্রধান দফতরে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। এ ডেস্কের নম্বর- ৯৫৬৪৩৬১ ও ০১৮১৮-২০২১৮৬। বিআরটিসিতে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কাউন্টারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো থাকবে।