‘দেশে মূসক দেয় মাত্র ৬০ হাজার প্রতিষ্ঠান’

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৫, ২০:৫৫
 
 
 
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) দেয়ার যোগ্য প্রতিষ্ঠান ৩ থেকে ৬ লাখ হলে দেশের মাত্র ৬০ হাজার প্রতিষ্ঠান তা দিয়ে থাকে। আর আয়কর দেয়ার যোগ্য লোকের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি হলেও আয়কর দেন মাত্র ১১ লাখ মানুষ। তাই মূসক ও আয়করের আওতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
 
রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মূসক দিবস ২০১৫ উপলক্ষে আয়োজিত মত বিনিময় সভা ও সর্বোচ্চ মূসক প্রদানকারী সম্মানান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক নীতি বিভাগের সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআরের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) মো. এনায়েত হোসেন।
 
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে মূসক দেয় মাত্র ৬০ হাজার প্রতিষ্ঠান। ৩ থেকে ৬ লাখ প্রতিষ্ঠান আছে যারা ব্যবসা করে মূসক দেয়ার উপযুক্ত। কিন্তু তারা মূসক দেয় না। মূসক দেয়ার ধারে কাছেও নেই।
 
তিনি বলেন, ১৬ কোটি লোকের দেশে রোজগার করে ৪ কোটি লোক। এদের মধ্যে আয়কর দেয় মাত্র ১১ লাখ। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো কি করে করের আওতা বাড়ানো যায়। এসব মানুষকে করের আওতায় নিয়ে আসা। মানুষের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর জন্যই করের আওতা বাড়ানো প্রয়োজন।
 
অর্থমন্ত্রী বলেন, এ দেশে মূসক মোটেই জনপ্রিয় কর নয়। ব্যবসায়ি সমিতিগুলো সহজে তা মেনে নেয়নি। অনেক পর্যালোচনার মাধ্যমে রিভিউ করা হয়। আসলে কোন করই জনপ্রিয় নয়। এর মধ্যে মূসক বেশি অজনপ্রিয়। তবে আমার নিজস্ব অভিমত হলো ‘মূসক সব চেয়ে ভালো কর’। নিজে হিসেব রাখলে এতে কোন ঝামেলাই নেই। এটা অত্যন্ত ভালো ও ন্যায় কর।
 
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশে টিআইএন ধারী ১৮ লাখ, এরমধ্যে কর দেয় মাত্র ১১ লাখ। গ্রাম-গঞ্জে অনেক মানুষ আছে যারা কর দিতে সক্ষম। তাদেরকেও করের আওতায় আনলে রাজস্ব আদায় বাড়বে।
 
অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা কেউ কর দিতে চাই না। শুধু তাই নয় এসম্পর্কে অনেকেই জানেন না। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা খুবই জরুরি। তিনি বলেন, বিদ্যুত্ ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে না বলে অনেকির ধারণা। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুত্ উত্পাদন অনেক বেড়েছে। বন্দরের সুবধা বাড়ানো হয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নও হয়েছে। এসবে সরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে। তার পরও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়েনি। এখন বেসরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
 
প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, কর আরোপের সময় সব সময় মনে রাখতে হবে তা যেন সহজে আদায় করা যায়। তা না হলে কর ফাঁকি দেয়া প্রবণতা বাড়বে ও এনবিআরেরও ব্যয় বাড়বে।
 
তিনি বলেন, ভ্যাট ব্যবস্থাকে অটোমেশন করার পাশাপাশি যারা কর দিবেন তাদের অটোমেশন সম্পর্কে জানতে হবে। রাজস্ব আদায় বাড়বে না। তাই করদাতা প্রতিষ্ঠানকেও অটোমেশনের মধ্যে আনতে এনবিআরএকে কাজ হবে ।
 
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহ্্মাদ বলেন, সঠিক ভাবে রাজস্ব আদায় করলে নিজসব অর্থায়ন বাজেট প্রণয়ন সম্ভব। বিদেশি অর্থায়নের আর প্রয়োজন হবে না। অতীতের সভাপতির মতো ভ্যাট আইন ২০১২ এর কিছু ধারা সংশোধন করার দাবি জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।
 

অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ মূসক পরিশোধকারী ৯ প্রতিষ্ঠান ও জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ মূসক পরিশোধকারী ১১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানা দেয়া হয়।