এবার প্রণোদনা কমেছে রফতানি খাতে

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৫, ১৫:১৯
পোশাক শিল্প রফতানিতে উেস কর বাড়ানোর পর এবার রফতানি খাতের নগদ প্রণোদনা কমিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরে রফতানিমুখী দেশিয় বস্ত্রখাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র- ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা ৪ শতাংশ করা হয়েছে। গত বছর এ প্রণোদনার পরিমাণ ছিল ৫ শতাংশ। এছাড়া চামড়াজাত দ্রব্য রফতানির ক্ষেত্রে প্রণোদনা আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছে। গতকাল এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
 
বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের কাছে পাঠানো ওই  প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের রফতানি বাণিজ্যকে উত্সাহিত করতে সরকার পূর্ববর্তী বছরের মত চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরেরও কতিপয় পণ্য রফতানি খাতে রফতানি ভর্তুকী বা নগদ সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ বছর ১৪টি রফতানি খাতে নগদ সহায়তা বা ভর্তুকি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সর্বনিম্ন ৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা দেয়া হবে। এক জুলাই থেকে আগামী ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই সুযোগ অব্যাহত থাকবে।
 
ওই প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে রফতানিমুখী দেশিয় বস্ত্রখাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র ব্যাকের পরিবর্তে ৪ শতাংশ হারে বিকল্প নগদ সহায়তা দেয়া হবে। যা গত অর্থবছরের তুলনায় এক শতাংশ কম। সমহারে কমানো হয়েছে বস্ত্রখাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সহায়তাও। এ খাতে সহায়তা ৫ শতাংশের পরিবর্তে দেয়া হবে ৪ শতাংশ।
 
অন্যদিকে রফতানি মূল্যের উপর কর হার দশমিক ৬ শতাংশ নির্ধারণ করে আরেক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছর এই কর হার ছিল দশমিক ৩ শতাংশ।
 
পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, কর বাড়ানো ও প্রণোদনা কমানোর এটা উপযুক্ত সময় নয়। এমনিতেই রফতানি কমছে। রফতানি আয় বৃদ্ধিতে এ খাতকে আরও সহায়তা দিতে হবে। তা না দিয়ে সরকার উল্টো প্রণোদনা কমাচ্ছে অন্যদিকে কর হার বাড়িয়েছে। এতে রফতানি আয়ে প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য গত অর্থবছরে যেখানে ১৫ শতাংশ পেয়েছে এবার এই খাতে প্রণোদনা থাকবে সাড়ে ১২ শতাংশ।
 
সবচেয়ে বেশি কমানো হয়েছে হাড়ের গুড়া রফতানি প্রণোদনা। গত বছর যেখানে ১৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এবার পাবে মাত্র ৫ শতাংশ। এখাতের প্রণোদনা এক বছরেই ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
 
তবে বরাবরের মত কৃষিজাত পণ্য রফতানি নগদ সহায়তা সবচেয়ে বেশি ২০ শতাংশ রাখা হয়েছে। হোগলা, খড় ও আখের ছোবড়া ইত্যাদি দিয়ে রফতানিমুখী হাতের তৈরি পণ্য রফতানি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যে ২০ শতাংশ ও মাংসে ২০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া হিমায়িত চিংড়িতে ১০ শতাংশ, জাহাজে ৫ শতাংশ, আলুতে ২০ শতাংশ, পাটজাত দ্রব্যে সাড়ে ৭ থেকে ১০ শতাংশ, বোতলে ১০ শতাংশ ও নতুন বাজারে পণ্য রফতানিতে ৩ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চিংড়ি ও মাছ রফতানির ক্ষেত্রে বরফ আচ্ছাদনের হার ও পাটজাতে বৈচিত্র্যকৃত পণ্যে ৭৫ শতাংশ পাটের ব্যবহার করার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে প্রণোদনা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে।
 
সহায়তা প্রাপ্ত ১৪টি খাতের মধ্যে ৩টি খাতে প্রণোদনা কমলেও বেড়েছে একটি মাত্র খাতে। হাল্কা প্রকৌশল পণ্য রফতানি খাতে প্রণোদনা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।