আমাদের জন্য বড় সুযোগ

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৫, ০১:৪২
শুধু জাতীয় দলের জন্য নয়, চট্টগ্রামের এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সাকিব আল হাসানের জন্যও বিশেষ সৌভাগ্য নিয়ে আসে। অবশ্য এসব ব্যাপারে একদমই বিশ্বাসী নন দলের এই সহঅধিনায়ক। গতকাল তিনি বলছিলেন, তারা ভাবছেন সিরিজ জয় নিয়ে। আর এই সিরিজ জয়ের সুযোগটাকে দলের জন্য বড় একটা ব্যাপার মনে করছেন তিনি।
 
কতোটা বড় ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটা?
 
সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যখন মাঠে নামি তখন তো সব ম্যাচই জেতার চিন্তা থাকে। অনেক সময় হয়ে সব ম্যাচ উঠে না। হ্যাঁ, এই ম্যাচটি সিরিজ নির্ধারণী। স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকদিন ধরে ঘরের মাঠে হারিনি। আমাদের জন্যে আরেকটি সুযোগ যে ম্যাচটি ভালোমত খেলতে পারি এবং জিততে পারি। অবশ্যই বড় একটা সুযোগ। আমি বলবো না, অত বড় ম্যাচ। তবে আমাদের জন্যে সুযোগটা অনেক বড়।
 
এই সিরিজটা যদি আমরা জিতি সেটাকে ঠিক কোথায় রাখবেন? ভারত-পাকিস্তান সিরিজের তুলনায়।
 
অবশ্যই পাকিস্তান ও ভারতের থেকে বড়। কারণ এই জিনিসগুলো তো আমরা আগে কখনো করিনি। যেই জিনিসটা আগে করিনি স্বাভাবিকভাবে সেই জিনিসটা হবে সেটা অবশ্যই বড় হবে। যদি এরকম কিছু হয় অবশ্যই বড় হবে। এখন পর্যন্ত যেটা করেছি সেটাও বড়। এর আগে তো কথনো দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজে হারাতে পারিনি। সেটাই একটা বড় ব্যাপার। যদি সিরিজটি জিততে পারি তাহলে অনেক বড় ব্যাপার হবে।
 
সিরিজ জয়ের এই সামনে দাঁড়িয়ে থাকাটা কি খেলোয়াড়দের জন্য প্রেরণা? নাকি চাপ?
 
প্রেরণা আর বাড়তি চাপ, আসলে কোনটাই না। সিরিজ যেহেতু তিন ম্যাচের, জিততে হলে যেকোন দলকে দুটি ম্যাচে জিততে হবে। সেই চিন্তা করে সবাই সিরিজ শুরু করে। যদিও সবাই ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করে। আমরা যেহেতু দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে গেছি, আমাদের সামনে বড় কিছু পাওয়ার হাতছানি আছে। অবশ্যই সবাই সেদিকে বেশি ফোকাস করবে। ম্যাচটি যেন জিততে পারি। হোমে যে জয়ের ভালো রানটা চলতেছে সেটা যেন কন্টিনিউ করতে পারি।
 
গরম কী বাংলাদেশ দলকে দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে কন্ডিশনে একটু এগিয়ে রাখবেন?
 
গরমটা বাড়তি সুবিধা দিবে কিনা সেটা বলা মুশকিল। ওরা সব সময় সব দেশে খেলে। হয়ত অভ্যস্ত হতেও পারে নাও পারে। ওরা মেন্টালি বেশ স্ট্রং। এটাকে ম্যাচে প্রভাব পড়তে দিবে না।
 
কী রকম রান এই উইকেটে নিরাপদ হতে পারে?
 
আসলে ভালো টোটাল কিংবা খারাপ টোটাল সেটা উইকেট দেখার পর বলা যায়। কারো ব্যাটিং কিংবা কারো বোলিং দেখার পর বোঝা যায় উইকেটে কতটা রান নিরাপদ। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই ২৫০ রান যদি কেউ করে ফেলে, তাহলে যে পরে ব্যাটিং করবে তার জন্যে টার্গেটা একটু কঠিন হবে। টার্গেট তাড়া করার একটা প্রেসার অবশ্যই থাকবে। আসলে আগের থেকে বলাটা মুশকিল কত রান নিরাপদ।
 
চট্টগ্রামের ভেন্যুকে বাংলাদেশের জন্য ‘লাকি’ বলা হয়। এটা কীভাবে দেখেন ক্রিকেটাররা?
 
যেখানেই খেলি জিততে হলে তো ভালো ক্রিকেট খেলতেই হবে। মাঠ বলেন আর উইকেট বলেন আর পরিবেশ বলেন। যদি ভালো খেলতে চাই আমাদের ভালো খেলতেই হবে। কেউ আসলে কখনো চিন্তা করে না যে এটা আমাদের লাকি গ্রাউন্ড, আমরা জিতবই বা ওটা আমাদের আনলাকি গ্রাউন্ড ওখানে আমরা কখনোই জিতি না। আমরা বাংলাদেশের সবগুলো মাঠেই ম্যাচ জিতছি এবং আমাদের কাছে মনে হয় সবগুলো গ্রাউন্ডই লাকি। এটা আমাদের হোম।
 
দ্বিতীয় ম্যাচটা জেতায় দল কী এখন আগের মতোই আত্মবিশ্বাসী?
 
আসলে এটা কোনো বিষয় না যে, আমরা এক ম্যাচ হারলে আমাদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে চলে যাবে বা এক ম্যাচ জিতলে আত্মবিশ্বাস আকাশে চলে যাবে। আমার মনে হয় না এটা কোনো খেলোয়াড়ের ভিতরে হয় এবং এভাবে কেউ চিন্তাও করে না। আমাদের জন্যে সবগুলো ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। সবগুলো ম্যাচ জেতার জন্যে খেলতে নামি। সব সময় সম্ভব হয় না। তবে আমাদের সামর্থ্য আছে জয়ের। প্রসেস ঠিক রাখতে পারলে হোমে আমাদের ভালো ফলাফল আনা সম্ভব।
 
ওরা কিন্তু সবাই এখনো নতুন।
 
ক্রিকেট নিয়ে এত গভীরভাবে চিন্তা কখনো করিনি। সব সময় একটা কম্বিনেশন থাকলে ভালো হয়। যেটা এখন আছে।
 
ব্যাটসম্যান
 

আমরা পারফর্ম করতে পারছি না এটা একটা ভুল কথা। কারণ ওয়ানডে রেকর্ড পর পর দুই ম্যাচে হারছি কিন্তু এর আগে তো টানা পাঁচ-ছয় ম্যাচ জিতে আসছি। আমাদের পারফরম্যান্স নিয়ে যদি কেউ কথা বলে তাহলে তার আগে রেকর্ড জানা দরকার।