লিভারপুল থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে রাহিম স্টার্লিংয়ের যোগ দেওয়াটা নিশ্চিতই ছিল। বাদ ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন দল ম্যান সিটির হয়ে মাঠে নামতে আর তর সইছে না ইংলিশ এই মিডফিল্ডারের।
সিটিতে যোগ দিতে পেরে ভীষণ খুশি স্টার্লিং। জানিয়েছেন দলটির হয়ে বড় বড় শিরোপা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত তিনি। চার কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে পাঁচ বছরের চুক্তিতে লিভারপুল থেকে সিটিতে যোগ দিয়েছেন ২০ বছর বয়সী স্টার্লিং। এই চুক্তির ফলে স্টার্লিংই এখন সবচেয়ে দামি ইংলিশ খেলোয়াড়।
এর আগ পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ইংলিশ খেলোয়াড় ছিলেন অ্যান্ডি ক্যারোল। তিনি ২০১১ সালে সাড়ে তিন কোটি পাউন্ডের বিনিময়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে লিভারপুলে যোগ দিয়েছিলেন।
অনেক দিন ধরেই স্টার্লিংয়ের সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। কিছু দিন আগে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্টার্লিং অ্যানফিল্ড ছাড়তে চান। গত জুনে তাকে কিনতে দুটি প্রস্তাব দিয়েছিল সিটি, কিন্তু তখন সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিল লিভারপুল। স্টার্লিং ২০১৭ সাল পর্যন্ত লিভারপুলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি ক্লাবের পক্ষ থেকে দেয়া সপ্তাহে এক লাখ পাউন্ড বেতনের নতুন চুক্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এদিকে লিভারপুল কোচ ব্রেন্ডন রজার্স জানিয়েছেন স্টার্লিংকে ছাড়াও ক্লাবটি ভাল করতে পারবে।
২০১১-১২ ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন ম্যান সিটি শিবিরে যোগ দেয়ার কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় স্টারলিং বলেন, ‘আমি খুব খুশি যে—প্রক্রিয়াটি শেষ হয়েছে এবং দলটির (ম্যান সিটি) হয়ে খেলার জন্য তর সইছে না আমার।’
নতুন ঠিকানায় নিজেকে আরও ভালো খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন এই ইংলিশ তারকা। তিনি বলেন, ‘আপনার চারপাশে যত বেশি মানসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকবে, আপনার খেলার মান তত বেশি বাড়বে।’ লিভারপুল ছাড়লেও দল ও এর কোচ ব্রেন্ডন রজার্সকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দলটিতে পাঁচ মৌসুম কাটানো স্টার্লিং। বিশেষ করে ১৫ বছর বয়সে তাকে দলে নেয়ার জন্য রজার্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
সিটি শিবিরে স্টারলিং সাত নম্বর জার্সি পরবেন, যেই জার্সিটি আগে গায়ে দিতেন সাবেক তারকা জেমস মিলনার। চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সিটি শিবিরে যোগ দেবেন স্টারলিং। তরুণ এই তারকাকে চুক্তিবদ্ধ করাতে পারায় খুশি সিটির কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনিও।
এখন পর্যন্ত ইংলিশ লিগের দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ছয় কোটি পাউন্ডে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে গত মৌসুমে নাম লেখান এই আর্জেন্টাইন প্লে-মেকার। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন স্পেনের ফার্নান্দো তোরেস। তিন নম্বরে রয়েছেন রাহেম স্টারলিং। আর ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে দামি দুই খেলোয়াড় হচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের গ্যারেথ বেল এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ওয়েলশ তারকা বেলের রিয়ালে চুক্তিবদ্ধ হন আট কোটি ৫৩ লাখ পাউন্ড। পর্তুগিজ তারকা রোনালদোর চুক্তিমূল্য আট কোটি পাউন্ড।
প্রিমিয়ার লিগের ব্যয়বহুল ১০ চুক্তি (পাউন্ড হিসেবে)
০১ অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া (ম্যান ইউ): ৬ কোটি
০২ ফার্নান্দো তোরেস (চেলসি): ৫ কোটি
০৩ রাহেম স্টারলিং (ম্যান সিটি): ৪ কোটি ৯০ লাখ
০৪ মেসুত ওজিল (আর্সেনাল): ৪ কোটি ২৫ লাখ
০৫ সার্জিও আগুয়েরো (ম্যান সিটি): ৩ কোটি ৮০ লাখ
০৬ হুয়ান মাতা (ম্যান ইউ): ৩ কোটি ৭০ লাখ
০৭ অ্যান্ডি ক্যারল (লিভারপুল): ৩ কোটি ৫০ লাখ
০৮ অ্যালেক্সিস সানচেজ (আর্সেনাল): ৩ কোটি ৫০ লাখ
০৯ ফার্নান্দিনহো (ম্যান সিটি): ৩ কোটি ৪০ লাখ
১০ রবিনহো (ম্যান সিটি): ৩ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ড
ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ ১০ চুক্তি (পাউন্ড হিসেবে)
০১ গ্যারেথ বেল (রিয়াল মাদ্রিদ): ৮ কোটি ৫৩ লাখ
০২ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ): ৮ কোটি
০৩ লুই সুয়ারেজ (বার্সেলোনা): ৭ কোটি ৫০ লাখ
০৪ নেইমার (বার্সেলোনা): ৭ কোটি ৫০ লাখ
০৫ হামেস রড্রিগেজ (রিয়াল মাদ্রিদ): ৬ কোটি ৩০ লাখ
০৬ অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া (ম্যান ইউ): ৬ কোটি
০৭ ইব্রাহিমোভিচ (বার্সেলোনা): ৫ কোটি ৯০ লাখ
০৮ কাকা (রিয়াল মাদ্রিদ): ৫ কোটি ৬০ লাখ
০৯ এডিনসন কাভানি (পিএসজি): ৫ কোটি ৫০ লাখ
১০ র্যাডামেল ফ্যালকাও (মোনাকো): ৫ কোটি ১০ লাখ
