তানোরে সোনালী ব্যাংকের কোটি টাকা আত্মসাতে জিএম ডিজিএম জড়িত!

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৫, ২৩:৫৬

তানোরে সোনালী ব্যাংকের ১ কোটি ১৮ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলার আসামি ব্যাংকের ওই শাখার সাসপেন্ডেড আইটি কর্মকর্তা নাজির হোসেন সোহেলকে স্ত্রী ও বন্ধুসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় র্যাব-৫, রাজশাহীর মোল্লাপাড়াস্থ সদর দফতরে প্রেস ব্রিফিংয়ে তাদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় সোহেল টাকা আত্মসাতের সত্যতা স্বীকার করেন এবং আত্মসাতের ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের রাজশাহী প্রিন্সিপাল অফিসের একজন মহাব্যবস্থাপকসহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে দাবি করেন। 

 
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন নাজির হোসেন সোহেলের ছোটভাই জুয়েল তার ভাইকে অপহরণ করা হয়েছে বলে র্যাব-৫-এর সদর দফতরে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪ জুলাই মঙ্গলবার রাতভর র্যাব অভিযান চালিয়ে নাজিরের শ্বশুরবাড়ি থেকে তার স্ত্রী সালমা জাহান লিমা এবং পরবর্তী সময় লিমার তথ্যের ভিত্তিতে নাচোল থেকে নাজির ও তার বন্ধু মাসুদকে আটক করে। তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল সোনালী ব্যাংকের তানোর শাখার ১ কোটি ১৮ হাজার টাকা আত্মসাতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। র্যাবের প্রেস ব্রিফিংয়ে সোহেল দাবি করেন, ‘সোনালী ব্যাংক তানোর শাখার জিএল ফান্ড থেকে ১ কোটি ১৮ হাজার টাকা তার নিজের হিসাবে সরিয়ে নেন। পরে টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য সোনালী ব্যাংক রাজশাহী প্রিন্সিপাল অফিসের একজন মহাব্যবস্থাপককে ১৫ লক্ষ, একজন উপ-মহাব্যবস্থাপককে ১০ লক্ষ, তিনটি অডিট দলকে ৫ লক্ষ এবং তানোর শাখার একজন সিনিয়র অফিসারকে কয়েক লক্ষ টাকা দেন। সোহেল দাবি করেন, ‘তিনি তার স্ত্রী এবং পিতার নামে সঞ্চয়ী হিসাব খুলে টাকাগুলো স্থানান্তর করেন। পরে তার বন্ধু রাজশাহীর ব্যবসায়ী এসএম মাসুদ হাসান চেকের উল্টো পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর দিয়ে ব্যাংক থেকে অর্থগুলো তুলে নেন। এরপর তিনি ও তার বন্ধু এসএম মাসুদ হাসান চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানায় তিন শ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ধান ক্ষেত ও ফলের বাগান, রাজশাহী মহানগরীতে ‘পদ্মা সীড লিমিটেড’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন খাতে ২টি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাস চালু করেন।’
 
র্যাবের প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহাবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আটক নাজির হোসেন সোনালী ব্যাংক তানোর শাখা থেকে যে ১ কোটি ১৮ হাজার টাকা আত্মসাত্ করেছেন, তার সঙ্গে আরো যারা জড়িত তাদের সকলের নামই স্বীকার করেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এটি তদন্তকারী কর্মকর্তারাই বের করবেন।’
 
সোনালী ব্যাংকের তানোর শাখায় একটানা প্রায় তিন বছর আইটি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন নাজির হোসেন সোহেল। এই সময়ের মধ্যে তিনি ওই শাখার জিএল ফান্ডের এক কোটি ১৮ হাজার টাকা আত্মসাত্ করেন। তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু গত ৭ মে তানোর শাখায় নতুন ব্যবস্থাপক হিসাবে যোগদান করেন জিল্ল্ুর রহমান। শাখা কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডে সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি রাজশাহী প্রিন্সিপাল ও প্রধান কার্যালয়ের নজরে আনেন। এরপর ২৪ মে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তানোর শাখার অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শুরু করেন। এ সময় ব্যাংকের পূর্বের শাখা ব্যবস্থাপক (বর্তমানে পুঠিয়া শাখার ব্যবস্থাপক) জহুরুল ইসলামকে ১৭ জুন পর্যন্ত তানোরে রেখে টানা ২৬ দিনের তদন্তশেষে ওই দিনই তদন্ত দল ঢাকায় ফেরে।
 

এদিকে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের তদন্ত দলের উপস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের তানোর শাখা থেকে পৃথকভাবে আত্মসাত্কৃত ৪২ লক্ষ টাকা ফেরত দেন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার সিনিয়র অফিসার হাসান মো. খালিদুল হক। কিন্তু গ্রেফতার এড়াতে সোহেল ব্যাংকে ১৫ দিনের ছুটির দরখাস্ত দিয়ে আত্মগোপন করেন। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মো. খালিদ ও সোহেলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। এরপর গত ২৫ জুন বর্তমান ব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে সোহেলের বিরুদ্ধে তানোর থানা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে এক কোটি ১৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করেন।