রফতানিমুখী জাহাজ শিল্পের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদান, ২ হাজার কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি তহবিল গঠন ও ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন এসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের নেতৃবৃন্ধ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে তারা এ দাবি জানান। সংগঠনের মহাসচিব প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পরপর দুইবছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জাহাজ শিল্প মালিক ও শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিছু রফতানি আদেশ বাতিল হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জাহাজ রফতানির বিপরীতে প্রদেয় নগদ সহায়তার পরিমাণ ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে এই নগদ সহায়তা আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত রাখারও প্রস্তাব করা হয়।
সরকারের উদ্যোগে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন প্রসঙ্গে মহাসচিব বলেন, জাহাজ নির্মাণ অনেক ব্যয়বহুল। একটি জাহাজ নির্মাণে প্রায় ২০ কোটি টাকা লেগে যায়। বর্তমানে উদ্যোক্তাদের কাছে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি জাহাজ রফতানির আদেশ রয়েছে। কিন্তু এ সব জাহাজ নির্মাণের জন্য এত অর্থ উদ্যোক্তাদের কাছে নেই।
তহবিল ব্যয় (কস্ট অব ফান্ড) প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জাহাজ রফতানিতে অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলোর (চীন, ভিয়েতনাম, ভারত) চেয়ে বাংলাদেশে শ্রম সস্তা হলেও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হারের কারণে এখানে উদ্যোক্তাদের তহবিল ব্যয় (কস্ট অব ফান্ড) অনেক বেশি। ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি জাহাজের দামও এখন অনেক প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে।
তহবিল ব্যয় কমিয়ে আনতে ব্যাংক গ্যারান্টির সুদের হার দেড় শতাংশ, দীর্ঘ মেয়াদি অর্থায়নের জন্য ৭ শতাংশ এবং চলতি মূলধনের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
জাহাজ শিল্প মালিকদের তিন দফা দাবির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, নগদ সহায়তা বৃদ্ধি ও ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের বিষয়টি চিন্তা-ভাবনা করে দেখা হবে। তবে ব্যাংক ঋণের সুদের বিষয়ে কিছু করণীয় নেই, কারণ এটি বাজার নির্ধারণ করে থাকে।
