বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে সমালোচনা করুন

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৫, ০০:১২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে সব ধরনের সমালোচনা করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের হাতে কলম রয়েছে, যা কোন অসত্ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত হবে না। আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে যাতে আপনাদের লেখনীতে দেশের অগ্রগতি থেমে না যায় এবং শত্রুরা সুযোগ না পায়। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে ১৭৭ জন সাংবাদিকের মাঝে এ অনুদান ভাতার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
 
তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি সমালোচনায় ভয় পান না। বরং সমালোচনা তাঁকে ভাল-মন্দ বুঝতে সাহায্য করে। তবে দেশ ও জনগণের ক্ষতি করে এমন সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়।
 
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সরকারের কর্মকাণ্ডে ত্রুটি খুঁজে পেতে পারেন, তবে সঠিকভাবে চিন্তা করলে আপনারা দেখতে পাবেন যে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছি এবং বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের পর্যায়ে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানেই থেমে থাকবো না। বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্ক্ষার অনুসরণে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে এ কথা উল্লেখ করে তিনি দেশের উন্নয়ন বিরোধী কর্মকাণ্ড, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ করতে সহায়তা কামনা করেন।
 
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বক্তৃতা করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম রহমত উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ও তথ্য সচিব মরতুজা আহমেদ।
 
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আলতাফ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ এবং সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদকগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
 
১৭৭ জনের মধ্যে ৬৩ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। অবশিষ্ট চেক সাংবাদিক ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট শাখা বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হবে।
 
এই সরকারের আমলে সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তার জন্য প্রথম গৃহীত এই ব্যবস্থায় গত ৪ বছরে ৬২৩ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারকে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়।
 
যারা ৮ম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন
 
করেনি তাদের মনিটর করা হচ্ছে
 
তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার সাংবাদিকদের জন্য অষ্টম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যে সকল সংবাদপত্র অষ্টম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করেছে সেসব পত্রিকার বিজ্ঞাপনের হার দ্বিগুণ করা হয়েছে।
 
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এখনো অষ্টম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করেনি, তাদের বিষয়টি সরকার নিবিড়ভাবে মনিটর করছে। ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে যারা ব্যর্থ হবে তাদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা সীমিত করে দেয়া হবে।
 
সাংবাদিকদের আর্থিক দুর্দশা বিবেচনা করে সরকার একটি স্থায়ী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা সত্ত্বেও তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জন্য এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
 
তিনি ট্রাস্ট কার্যক্রম চালুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘সিড’ মানি দেয়ার আশ্বাস দেন এবং তিনি ট্রাস্টে তহবিল সরবরাহের জন্য দানশীল ব্যক্তি এবং সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
 
আইসিটি সম্প্রসারণের কারণে দেশে অন-লাইন মিডিয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার অন-লাইন মিডিয়া পলিসি গঠন করছে যা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। এই পলিসি সমাজে বিশেষ করে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কিছু অশোভন ছবি পোস্টিং রোধে সহায়ক হবে।
 
প্রধানমন্ত্রী ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদুল ফিতরের দিন সকালে বিচারক ও বিদেশি কূটনীতিকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
 
শেখ হাসিনা প্রথমে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। পরে তিনি বিচারক ও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে একই স্থানে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
 
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাত্
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিন ও সেদেশের জনগণের ন্যায়সঙ্গত স্বার্থের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ অঙ্গীকার ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
 
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত শাহের এম এইচ আবুইয়াদেহ গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে বিদায়ী সাক্ষাত্ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
 
সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, শেখ হাসিনা ইসলামের শান্তির বাণী পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতাকামী নেতা হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময়ই ফিলিস্তিনিদের মুক্তি সংগ্রামে সমর্থন দিয়ে গেছেন।
 
ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় নির্বিচারে ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার নীরবতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এ ধরনের ঘৃণ্য হামলার নিন্দা জানাচ্ছেন।
 
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ধরনের চরমপন্থা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নিন্দা জানায়।
 
ফিলিস্তিনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ফিলিস্তিনিদের স্বার্থের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
 
তিনি উল্লেখ করেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কারাগারে আটক থাকাকালে তার প্রতি সম্মান জানাতে অনেক ফিলিস্তিনি নাগরিক তাদের নবজাতক সন্তানের নাম ‘মুজিবুর’ রেখেছিলেন।
 
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।