জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সিরিজ থেকে শুরু। এরপর বিশ্বকাপ এবং দেশের মাটিতে টানা তিনটি সিরিজ। বিশ্রাম কাকে বলে যেন ভুলতেই বসেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। টেস্ট না খেললেও ওয়ানডে-টি টোয়েন্টির নেতৃত্বের ধকল সামলে খেলতে হয়েছে চোট নিয়েও। অবশেষে একটু বিশ্রাম মিললো অধিনায়কের। চলতি বছরে বাংলাদেশের আর কোন সীমিত ওভারের ম্যাচ না থাকায় আন্তর্জাতিক সূচি থেকে বছরের বাকি সময়ের জন্য অবসর পাচ্ছেন মাশরাফিও।
তবে বিশ্রামে যাবার আগে দলীয় সাফল্যের আগে দারুণ এক ব্যক্তিগত অর্জনও সঙ্গী হয়েছে মাশরাফির। মাত্র তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে গড়েছেন ওয়ানডেতে ২০০ উইকেটের রেকর্ড। মাশরাফি জানালেন, দলের সাফল্যের কারণে আরো মধুর হয়েছে ব্যক্তিগত অর্জন।
বিশ্রামে গেলেও নিজের যত্নটা ঠিকভাবেই নেবেন বলে ভক্তদের প্রতিশ্রুতি দিলেন মাশরাফি। দুই হাঁটুতে সাতটি জটিল অস্ত্রোপচারের কারণে পুনর্বাসন কিংবা বিশ্রামে থাকাকালীন কিভাবে নিজেকে ফিট রাখা যায় সেটা বেশ ভালই জানা আছে তার। দেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই পেসার জানান, ‘আমি অবশ্যই ট্রেনিং করবো। চোটে পড়ার পর থেকে সারা বছর আমি একা ট্রেনিং করি। বাইরে অনেক কোচ আছে, ট্রেনার আছে, সেভাবে সেট করব।’
মাশরাফি ২০০৯ সালের পর থেকে আর টেস্ট খেলেননি। ক্যারিয়ারের বাকি সময়ে আবারো সাদা পোশাকে নামবেন সেই সম্ভাবনাও খুব বেশি নেই। তবে বরাবরই বলে আসছেন, যতদিন সামর্থ্য থাকবে দেশের সেবা করে যেতে চান। তাই পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে থাকলেও নিজের প্রতি খেয়াল থাকবে বলে জানালেন, ‘আমি নিজেও জানি, আমাকে কিভাবে যত্ন নিতে হবে। ভারত সিরিজের আগে দুর্ঘটনায় পড়ায় আমার ফিটনেস বা রিদমে একটু সমস্যা হয়ে যায়। প্রায় ১৪ দিন আমি কোনো অনুশীলন করতে পারিনি। এখনও আমি তার ধাক্কা বয়ে বেড়াচ্ছি।’
আবদুর রাজ্জাক এবং সাকিব আল হাসানের পর জায়গা করে নিয়েছেন ২০০ উইকেটের ক্লাবে। প্রায় দেড় যুগ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রতিভা এবং সামর্থ্য হিসেবে হয়তো একটু দেরিই হলো। তবে ভয়াবহ সব চোটের কথা মাথায় নিলে অবশ্য কারণটা পরিষ্কার হয়ে যায়। মাশরাফি তাই পুরনো দিনের কথা না ভেবে বর্তমান মুহূর্তগুলোকেই উপভোগ করতে চাইলেন। বললেন দলীয় সাফল্যের কথাও, ‘ব্যক্তিগত কোন অর্জনের দিনে ম্যাচ না জিতলে খুব খারাপ লাগে। এখন খুব ভাল লাগছে। দুইশ’ উইকেট পেয়েছি। যদিও এটা বিশ্ব ক্রিকেটে খুব ছোট একটা রেকর্ড কিন্তু আমার জন্য অনেক বড়। বিশেষ করে আমার জীবনে যে সব প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে এসেছি।’
মাশরাফির প্রত্যাশা একদিন তাকে ছাড়িয়ে আরো বহুদূর যাবেন সতীর্থদের কেউ কেউ, ‘সাকিব, মুস্তাফিজ...আমার মনে হয় ওদের বিশ্বের সেরাদের মধ্যে ঢোকার সুযোগ আছে। বাকি আরও অনেকেই আছে। আমার মনে হয়, ওরা একটা ভাল রেকর্ডের কাছে যেতে পারে। আমার ভালো লাগছে অবশ্যই। বেশি ভাল লাগছে, ওদের কথা ভেবে, যারা আরও অনেক ভাল করতে পারে।’
