রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় আগুন লেগে একটি মেসবাড়ি, একটি ভবনে থাকা কয়েকটি দোকান এবং ঝিলের ওপর বাঁশ পুঁতে গড়ে তোলা শতাধিক টংঘর ভস্মীভূত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, সোমবার বেলা প্রায় একটার দিকে ব্যাংক এশিয়া ও সিডিসিএল সিএনজি স্টেশনের পাশের গলিতে একটি টিন-শেড বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সোয়া ২টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের শিখা অনেক উঁচু পর্যন্ত উঠে যাওয়ায় চারপাশের আবাসিক ভবনগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে প্রগতি সরণীর এক পাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে পাশের ভেনাস কমপ্লেক্স নামের একটি বহুতল ভবন থেকে বাসিন্দাদের নামিয়ে আনা হয়।
IMG0
আশপাশের এলাকা থেকে বহু মানুষ জড়ো হওয়ায় তাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। বারিধারা ফায়ার স্টেশনের কর্মী আমানত হোসেন বলেন, ওই মেসবাড়িতে আগুন লাগার পর তা পেছনের বস্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। গিয়াসউদ্দিন রানা নামের এক মাইক্রোবাস চালক তার দুই মেয়ে ও স্ত্রীর প্রথমে কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের পাওয়া যায়নি।
হেলেনা বেগম নামের এক নারীর তার তিন ছেলেমেয়ে ওই বাড়িতে থাকতেন। আর তিনি নিজে থাকেন কাছে আরেকটি বস্তিতে। মেয়ের কাছে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও আগুনের কারণে ভেতরে ঢুকতে না পেরে কান্নাকাটি করতে দেখা যায় হেলেনা বেগমকে।
পাশের খান মার্কেটের ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান, তার একজন কর্মচারী ওই বোর্ডিংএ থাকতেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক নুরুল হক বলেন, জনতার ভিড় আর কাছে কোনো পানির সোর্স না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে। না হলে আরো আগে নেভানো সম্ভব হত।
IMG1
কয়েক বিঘার বর্গাকৃতি জমির ওপর গড়ে তোলা ভাই ভাই বোর্ডিংয়ের মালিক স্থানীয় কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা ওসমান গণি। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি ঘটনাস্থলেও যাননি।
পুড়ে গেছে ঘরের সবকিছু
ঈদে ছুটি ছিল না। তাই প্রতিদিনের মত সোমবার সকালেও ঘরে তালা দিয়ে অফিসে চলে গিয়েছিলেন মো. সিরাজ উদ্দিন। ব্যাচেলার থাকলেও তার রুমে টিভি, কম্পিউটার, রাইস কুকার, প্রেসার কুকারসহ ইলেকট্রনিক্স নানান সামগ্রী ছিল। অফিসে গেলেও একপ্রকার ছুটির মেজাজেই সহকর্মীদের সাথে খোশগল্পে মেতে ছিলেন তিনি। কিন্তু বেলা সোয়া একটার দিকে তার রুমমেট রিয়াদ ফোন করে তাকে জানান, তাদের মেসে আগুন লেগেছে। টিভিতে দেখাচ্ছে। বিলম্ব না করে গুলশান-২ থেকে ছুটে যান মধ্য বাড্ডায় তার ঘরের সামনে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে তার ব্যাচেলর জীবনে একটু একটু করে সাজানো সংসারের সবকিছু।
স্থানীয়রা জানান, শামসু মিয়ার ফ্যামিলি মেস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে একটি ঘরে ফুচকা বানানো হচ্ছিল। সেই ঘরে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মেস বাড়িগুলোর অধিকাংশেরই মালিক স্থানীয় ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওসমান গনি।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, কেউ নিখোঁজ আছে, এমন কোন অভিযোগ কেউ করেনি। তারপর তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণও নিশ্চিত করতে বলতে পারেননি তিনি।
