এডেনের শেষ হুতিঘাঁটি নির্বাসিত সরকার বাহিনীর দখলে

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৫, ১৬:৪৯
 
 
এডেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরটির অবশিষ্টাংশও এখন ইয়েমেনের নির্বাসিত সরকারের অনুগত বাহিনীর দখলে। তাওয়াহি জেলার অধিকাংশ এলাকা দখলে নিয়েছিল স্থানীয় আধা-সামরিক ও সামরিক বাহিনীর সৈন্যরা। এ ছাড়া সৌদি পরিচালিত যৌথ বাহিনীর বিমান হামলাও এ সময় অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছে নির্বাসিত সরকার বাহিনীর এক মুখপাত্র। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
এ দিকে, দীর্ঘ চার ঘণ্টার প্রচণ্ড যুদ্ধের পর শুক্রবার ওই শহরটি মুক্ত করার ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। সপ্তাহজুড়ে ওই এলাকায় সংঘর্ষ চলছে। এতে এ পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছে। গত রবিবার উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলী ও জনসংখ্যার ঘনত্বসমৃদ্ধ এলাকা দার সাদে আক্রমণ করে বিদ্রোহীরা। এ সময় বিদ্রোহীদের কামানের গোলায় অনেকে নিহত ও আহত হয়। এ ঘটনায় অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। মেডিসিনস স্যানস ফ্রন্টিয়ার (এমএসএফ) এ কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় দাতব্য হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে—তাদের হাসপাতালে ১৫০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। প্রত্যেকে শারিরীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রয়েছে।
এ ছাড়া, ৪২ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে এবং আরো ১০টি মরোদেহ স্থান সংকুলানের অভাবে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এমএসএফ আরো জানিয়েছে—এর মধ্য দিয়ে হুতিরা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভয়ানক প্রতিশোধ নিল। তাদের আশঙ্কা—ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরেও সাধারণ জনগণকে লক্ষ্য করে এমন হামলা  চালানো হতে পারে। তবে দার সাদে নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। এ ছাড়া, এ অভিযোগকে তারা গণমাধ্যমের ভেল্কিবাজি বলে আখ্যায়িত করেন।
ও দিকে সোমবারও এডেনের উত্তর ও পূর্বদিকে প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলোর আশপাশে এবং তাইজ শহরে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল।
অন্য দিকে, হুতি এবং মিত্র ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহর অনুগত বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণের প্রতিরোধ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তবে রবিবার হুতি বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি সাদা প্রদেশে যৌথ বাহিনীর বিমান হামলায় ২০ জন বেসামরিক নিহত হয়।
দেশটিতে গত চার মাসের সহিংসতায় ৩,২০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের অর্ধেকই বেসামরিক নাগরিক।
এ ছাড়া, এ পর্যন্ত ১০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। মানবিক সহায়তা প্রয়োজন মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের।