আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পাওনা ২০৫ কোটি ইউরো পরিশোধ করেছে গ্রিস। সংস্থাটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে জানানো হয়—তাদের কাছে গ্রিসের কোনো বকেয়া নেই। একই দিন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) ৪২০ কোটি ইউরো ঋণ পরিশোধে গ্রিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়। খবর বিবিসির।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে গ্রিসকে স্বল্পমেয়াদি ঋণের ৭০০ কোটি ইউরো ছাড় দেয়ার পরপরই দাতাসংস্থা দুটির বকেয়া পরিশোধ করা হচ্ছে। গত ৩০ জুন আইএমএফের ঋণ পরিশোধের ডেডলাইন ও ১৩ জুলাই ইসিবির ডেডলাইন পার হয়। নির্দিষ্ট সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ঋণখেলাপিতে পরিণত হয়েছিল গ্রিস। এর আগে গত সোমবার গ্রিসের ব্যাংকগুলো খুলে দেয়া হয়। টানা তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ব্যাংকগুলো আবার খুলে দেয়া হয়। ব্যাংকগুলো খুলে দেয়া হলেও এখনো সব নিষেধাজ্ঞা উঠছে না। কিছু বিধিনিষেধ বজায় থাকার পাশাপাশি ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) বাড়ানোয় গ্রিক পণ্যবাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
তারল্য সংকট মোকাবিলায় বন্ধ করে দেয়া গ্রিক ব্যাংকগুলোর বুথ থেকে এর আগে প্রত্যেক গ্রাহককে দৈনিক ৬০ ইউরো করে তোলার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এখন থেকে তারা সপ্তাহে ৪২০ ইউরো করে উঠাতে পারবেন। দেশটিতে এর আগে ভ্যাট ১৩ শতাংশ থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ২৩ শতাংশ করা হয়েছে।
কৃচ্ছ্রসাধন নীতির বিরোধিতা করা এবং ঋণদাতাদের শর্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া গ্রিক প্রধানমন্ত্রী সিপ্রাস সম্প্রতি ইউরোজোন থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে (বেইলআউট) তৃতীয় দফায় ঋণ নিতে সম্মত হন। তার দেয়া প্রস্তাবনা মেনে নিয়ে শর্তযুক্ত ৮ হাজার ৬০০ কোটি ইউরো ঋণ দিতে সম্মত হয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। বেইলআউট ছাড়াও দেশটিকে আরও ঋণ দেয়া হচ্ছে। নতুন ঋণের ফলে কর বৃদ্ধি, পেনশনে কাটছাঁট, সরকারি সম্পদ বেসরকারিকরণসহ বিভিন্ন নেতিবাচক বিষয় মোকাবিলা করতে হবে গ্রিকদের।
