আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বর্ধিত ঋণ সহায়তার (ইসিএফ) শেষ দুই কিস্তির অর্থ নেয়া হবে বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইএমএফ-এর কাছ থেকে ইসিএফ-এর শেষ দুই কিস্তির ২৮ কোটি ডলার বাংলাদেশ নিচ্ছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে এ অর্থ পাওয়া যাবে।
ঈদের আগে অর্থমন্ত্রী এ অর্থ গ্রহণ না করার বিষয়ে সাংবাদিকদের জানালেও সেই অবস্থান থেকে তিনি সরে আসলেন। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশী অডিট কোম্পানি দিয়ে বিপিসির সমুদয় হিসাব অডিট করার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। এ কারণে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে।
উল্লেখ্য, ইসিএফ-এর শেষ দুই কিস্তির অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে বিপিসির সমুদয় হিসাব কোনো বিদেশি কোম্পানি দিয়ে অডিট করানোর শর্ত দিয়েছিল আইএমএফ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি জানতাম সরকারি কোন সংস্থার বিদেশি কোন অডিট ফার্ম দিয়ে অডিট করানো যায় না। আমি মনে করেছিলাম যে, এটা করতে হলে আইন পরিবর্তন করতে হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমি ইসিএফ ঋণের শেষ দুই কিস্তির অর্থ না নেয়ার কথা বলেছিলাম। পরবর্তীতে আইন পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, সরকারি সংস্থা অডিট বিদেশী কোনো ফার্ম দিয়ে করানো যাবে না, এমন কোন শব্দ নেই। যে কোনো অডিট ফার্ম দিয়ে অডিট করানো যাবে বলে উল্লেখ আছে। কাজেই বিপিসির হিসাব বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।
বিপিসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিপিসি যেভাবে চলছে সেভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। ‘ব্যাডলি ম্যানেজড’। এর আগে যে চেয়ারম্যান ছিল তার সময় থেকেই এমনটা হয়েছে। মানুষ হিসেবে সত্ ছিলেন কিন্তু প্রশাসক হিসেবে তিনি কোনো যোগ্যতা দেখাতে পারেননি। এই সুযোগে প্রতিষ্ঠানটি হরিলুটের জায়গা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানটির কোনো ব্যালেন্স শীটও নাই। চুরির সুবিধার্থে কোনো অডিটও করা হয় না বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, এর আগে এই ঋণসহায়তা নিতে প্রাকপ্রতিশ্রুতির অনেক শর্তই পরিপালন করে সরকার। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখেও আইএমএফের নির্দেশিত পথে ভ্যাট আইন সংস্কার করে। রাজস্ব খাতে সংস্কারসহ অন্যান্য শর্তাদি পালন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের জন্য বর্ধিত ঋণ সহায়তা (ইসিএফ) হিসাবে ৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ এসডিআর (প্রায় ১ বিলিয়ন) অনুমোদন করে আইএমএফ। প্রতি কিস্তিতে ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার করে বাংলাদেশকে দেয়ার কথা ছিল। সবমিলিয়ে ৫ কিস্তি পাওয়ার পর তা আটকে যায়।
