টানা বৃষ্টির মধ্যেও পর্যটকদের পদভারে মুখরিত রাঙ্গামাটি। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা এসেছেন পর্যটন শহরটিতে। তারা ঝুলন্ত সেতু, সুবলং ঝরণা, কাপ্তাই লেকসহ পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। ঈদের ছুটি কাজে লাগিয়ে লেক ও পাহাড়ে এসে আনন্দ আর উচ্ছলতায় সাময়িক সময়ের জন্য হলেও পর্যটকরা ভুলে গেছে জীবনের নানা জটিলতা।
ঈদের ছুটিতে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সেজেছে রাঙ্গামাটি। ঈদের পরের দিন থেকে সপ্তাহজুড়ে বুকিং রয়েছে সরকারি পর্যটন মোটেলসহ শহরের প্রায় সবগুলো আবাসিক হোটেল, রেস্ট হাউজে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটকদের আগমনে হঠাত্ জমজমাট হয়ে ওঠেছে শহরের পর্যটন হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও নৌ-পরিবহন ব্যবসা। অন্যদিকে ঈদ উত্সব ও পর্যটকদের আগমন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোটা শহরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রেখেছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো।
রাঙ্গামাটি সরকারি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, ১৯-২৪ জুলাই মোটেলের সবগুলো কক্ষ অগ্রিম বুকিং করা রয়েছে। আগত পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা ঝুলন্ত সেতুটি। সেতুটি মজবুত রাখতে পাটাতন পাল্টানো হয়েছে। এখন সুবলং ঝরণাটি জীবিত। সেখানে পানি রয়েছে। সতেজ হয়েছে প্রকৃতি। পানিতে পূর্ণ কাপ্তাই লেক। পর্যটকরা সরাসরি মোটেল থেকে নৌযান নিয়ে কাপ্তাই লেকে নৌ-ভ্রমণসহ সুবলং ঝরণাটি উপভোগ করে আসছেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর ঈদ উত্সব ঘিরে গোটা কমপ্লেক্স উত্সবমুখর হয়ে ওঠে। এবার ঈদেও দলে দলে আপনজন ও পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটন মোটেলে ছুটে যাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন ও অগণিত পর্যটক।
এদিকে, দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে পার্বত্যাঞ্চলে ঈদ উত্সব অনেকটা ব্যতিক্রমী। উত্সবে বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে একাকার হয়ে মেতে ওঠেন পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীসহ অন্য সকল ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সম্প্রদায়ের নর-নারী। এতে ঈদ উত্সব পরিণত হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলন মেলায়।
রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সে নির্মিত ৫১ কক্ষবিশিষ্ট তিন তারকা মানের আন্তর্জাতিক নতুন মোটেলটি গত বছর চালু করা হয়েছে। মোটেলে সুইমিংপুল নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া আছে। সুইমিংপুল নির্মিত হলে পাঁচ তারকা মানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মোটেল হবে এটি। এছাড়া আগের মোটেলে কক্ষ রয়েছে ৩৫টি। ভাড়া নতুন, পুরাতন মোটেল উভয় ক্ষেত্রে ডাবল (এসি) ৩ হাজার টাকা, নন এসি (ডাবল) ১ হাজার ৮শ’, সেমি ডাবল (এসি) ১ হাজার ৬শ’। কনফারেন্স রুম দৈনিক দশ হাজার টাকা। এছাড়া কটেজ (এসি) ৬ হাজার টাকা এবং নন এসি ৩ হাজার ২শ’ টাকা।
রাঙ্গামাটি শহরে আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল সুফিয়া, গ্রিন ক্যাসেল, আল মোবা, নীডস হিলভিউ ও প্রিন্স উল্লেখযোগ্য।
হোটেল প্রিন্সের মালিক ও রাঙ্গামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. নেছার উদ্দিন বলেন, অতিথিদের আগমনে তার হোটেলের সবগুলো কক্ষ ১৭-২৬ জুলাই অগ্রিম বুকিং হয়ে রয়েছে। তার আগে হোটেলে কোন রুম খালি নেই।
নৈসর্গিক রাঙ্গামাটি অবলোকনে আসা পর্যটকরা সরকারি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্স, বেসরকারি পর্যটন স্পট টুকটুক ইকোভিলেজ, পেদাটিংটিং, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফের স্মৃতিসৌধ, চাকমা রাজার বাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় যাদুঘর, সাপছড়ি স্পট, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ভাস্কর্যসহ অসংখ্য দর্শনীয় ও উপভোগ্য স্থানগুলো ঘুরে যাচ্ছেন। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যেকোন স্থান থেকে সরাসরি আসা যায় রাঙ্গামাটি। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি রাঙ্গামাটির বিলাসবহুল পরিবহন সার্ভিস এস আলম, শ্যামলী, ইউনিক, ডলফিন ইত্যাদি চালু আছে। চট্টগ্রাম থেকে বিআরটিসি, পাহাড়িকাসহ বিভিন্ন বাস সার্ভিসে সরাসরি খুব সহজে যাওয়া যায় রাঙ্গামাটি।