কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ নিশ্চিতে কঠোর হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৫, ২১:৫৯
 
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বারবার দেয়া তাগিদ ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নানাবিধ সুবিধা দেয়ার পরও কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। এ খাতের ঋণে সুদের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংক গুলোর ঋণ বিতরণে তেমন আগ্রহ দেখায় না। তাই এসব ব্যাংক যাতে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করে সে জন্য আরও কঠোর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
 
এখন থেকে কোন ব্যাংক কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলে অনার্জিত অংশের পুরোটাই বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলক জমা রাখতে হবে। আর এ অর্থের উপর কোন সুদ দেয়া হবে না। অর্থাত্ কোনো ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১০০ টাকা হলে ওই ব্যাংক যদি বছর শেষে ৮০ টাকা বিতরণ করে তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে জমা রাখতে হবে। এর আগে অনার্জিত অংশের ৩ শতাংশ জমা রাখতে হতো। অর্থাত্ ১০০ টাকা লক্ষ্যের বিপরীতে ৮০ টাকা বিতরণ হলে ৬০ পয়সা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখলে চলত। তবে কোনো ব্যাংক যদি তাদের মোট ঋণের ২ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষি ঋণ বিতরণ করতে পারত, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে এ প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতো না। কিন্তু এখন থেকে এ সুবিধাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
 
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন সব বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে, যদিও এ অর্থবছরের কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। বিদায়ী ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর জন্য ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য ৬ হাজার ৪১০ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করে দেয়া হয়। আর বাকি ৯ হাজার ১৪০ কোটি টাকা ছিল রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য।
 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে ব্যাংকগুলো ১০ হাজার ২০২ কোটি ১৩ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এটা লক্ষ্যমাত্রার ৭২ শতাংশ।