মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সবসময় নির্যাতিত নারী ও শিশুদের পাশে থাকবে।
দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামীর নির্যাতনে চোখ হারানো সুখী বেগমের শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।
সাভারের সুখী বেগমকে দেখতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুখীর পরিবার যেন অসহায় হয়ে না পড়ে তার জন্যে সবকিছুই সরকার করবে। তার দুই সন্তানের ভরন-পোষণের ব্যবস্থাও করা হবে। এসময় প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সুখী বেগমের জন্য ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন।
মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম, সুখীর বাবা নূর মোহাম্মদ, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক জালাল আহমেদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুখী বেগমের স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আসামীদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে সরকার আইনজীবী নিয়োগ করবে। যারা এ ধরণের কাজ করতে পারে তারা মানুষ নয়। এদেরকে সবাই মিলে প্রতিহত করতে হবে।
ঈদের আগের দিন শুক্রবার সাভারের জিঞ্জিরা এলাকায় ভাড়া বাসায় ইলেকট্রিক টেস্টার দিয়ে গৃহবধূ সুখীর এক চোখ উপড়ে ফেলে স্বামী রবিউল ও স্বজনেরা। আরেক চোখেও তীব্রভাবে আঘাত করে। এলাকাবাসী সুখীকে উদ্ধারের পর রবিউলকে তুলে দেয় সাভার থানা-পুলিশের হাতে। এলাকাবাসী সুখীকে হাসপাতালে ভর্তি করে। সুখীর পরিবার বাদী হয়ে মেয়ের স্বামীসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করে।
বর্তমানে সুখীর অবস্থা আশংকামুক্ত হলেও তার দুই চোখের জ্যোতি হারিয়ে গেছে। ডান চোখের জায়গায় বসিয়ে দেয়া হয়েছে প্লাস্টিকের চোখ। বা চোখে দেখার সম্ভাবনাও ক্ষীন বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। -বাসস
