কলাবাগানে ওবায়দুল খুন: স্ত্রীসহ গ্রেফতার ৩

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৫, ২২:০৯
রাজধানীর কলাবাগানে ওবায়দুল হক খুনের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাসমিন খদিজা সোনিয়াসহ (২৬) তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত অপর ব্যক্তিরা হলেন—মাহমুদুল হাসান মিঠু ও তানভীর আহমেদ। পরকীয়া প্রেমের জের ধরে স্ত্রীর পরিকল্পনায় তার প্রেমিক সাইফুল হাসান রুবেল পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করে ওবায়দুল হককে। ডিবি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
 
গত ২৬ জুন রাতে কলাবাগান থানা এলাকার সার্কুলার রোডে সাব-জিরো (কোয়ালিটি) আইসক্রিম পার্লারের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ওবায়দুল হককে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্থানান্তর হয়।
 
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, সোনিয়া ও সাইফুল দুজন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে বছর চারেক আগে তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে তাদের সম্পর্ক রূপ নেয় ভালোবাসায়। আট মাস আগে পারিবারিকভাবে সোনিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় চট্টগ্রামের বাসিন্দা ওবায়দুল হকের। তবে বিয়ের পরও সোনিয়া তার সাবেক প্রেমিক রুবেলের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখতেন। সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধতে ওবায়দুলকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেন সোনিয়া। এ জন্য পিস্তল সংগ্রহ করতে সোনিয়া রুবেলের হাতে তুলে দেন ৬০ হাজার টাকা। ওই টাকা দিয়ে রুবেল একটি পিস্তল সংগ্রহ করে। এরপর তার তিন ভাগ্নে তানভীর, মিঠু ও পাপ্পুকে দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে।
 
পরিকল্পনা অনুযায়ি মিঠুর দায়িত্ব ছিল ওবায়দুল কোথায় যায় কিভাবে যায় সেটা রেকি করে রুবেলকে জানানো। রুবেল, পাপ্পু ও তানভীর মোটরসাইকেলে চড়ে কলাবাগান ভুতের গলির মাথায় অবস্থান নেয়। ওবায়দুল রিকশা যোগে বাসায় যাওয়ার খবর মিঠু তাদেরকে মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেয়। এমন খবর পাওয়ার পর ১০৩, সার্কুলার রোডে (ভুতেরগলি) বেরিকেড দেয় তারা। ঘটনাকে ছিনতাই সাজাতে পিস্তল ধরে বলে ‘যা আছে দিয়ে দে’। ওবায়দুল কোনো কথা না বলে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন দিয়ে দেন। এরপরও রুবেল তানভীরকে উদ্দেশ্যে করে বলেন যে ‘শালারে গুলি করে দে’। তানভীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ওবায়দুলকে একটি গুলি করে তারা মোটর সাইকেলে পালিয়ে যায়।
 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তের পর মিঠু ও তানভীরকে কয়েক দিন আগে গ্রেফতার করে। তারা আদালতে এ সংক্রান্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে এ হত্যার সঙ্গে ওবায়দুলের স্ত্রী সোনিয়া ও তাদের মামা রুবেলের মূল পরিকল্পনার কথা জানায়। পরে বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ চট্টগ্রামে সোনিয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসে।
 
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদ সাংবাদিকদের জানান, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া পাপ্পু, মিঠু ও তানভীর সম্পর্কে রুবেলের ভাগ্নে। তবে আপন নয়। মামার প্রেমিকাকে ফেরত পেতে তারা এই হত্যাকান্ড ঘটাতে রাজি হয়। ওবায়দুলকে খুন করার পর তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুলাহ হলে পূর্ব পরিচিত দুই বন্ধুর কাছে চলে যায়। পরে ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে আত্মগোপন করে তারা। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি জব্দ করেছে। ওবায়দুলের লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। তবে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃ অস্ত্র ও ওবায়দুলের ল্যাপটপ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।