চলতি বছরের শেষে বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি (ক্লাইমেট রেসকিউ প্যাক্ট) সম্পাদনে বড় ধরনের সাফল্যের আভাস দিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির রাজধানী প্যারিসে ৪৬ জাতির বৈঠকে বহুল প্রত্যাশিত এই চুক্তির ক্ষেত্রে তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। আগামী ডিসেম্বরে প্যারিসে এই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।
ফ্রান্সের শীর্ষ জলবায়ু কূটনীতিক লরেন্স তুবিয়ানা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন। তাঁরা কয়েকটি ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন যেসব বিষয় নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে মতবিরোধ চলছিলো। এটা অবশ্যই বড় সাফল্য। তাদের এই ঐকমত্য থাকা জরুরি। একবার এই চুক্তি সম্পাদিত হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধিকারী গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ বন্ধে দেশগুলো সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাবে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, প্যারিসের আলোচনায় রাজনৈতিক সাফল্যের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে। আশা করা হচ্ছে, এই সাফল্য ১৯৫ দেশের আলোচকদের জন্য ঐতিহাসিক বৈশ্বিক চুক্তির কাজ সহজ করে দেবে। যদিও প্যারিসের আলোচনায় কোনো সরকারি কূটনীতিকরা ছিলেন না। তারপরও ক্ষতিকর গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণকারী শীর্ষ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা এখানে ছিলেন। ফ্রান্সের এই আলোচনার অগ্রগতিতে স্বাগত জানিয়েছেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশ মার্শাল আইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টনি ডা ব্রুম।
আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর ফ্রান্সের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সম্মেলনে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ চুক্তির উদ্দেশ্য হবে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে আনা। সকলের ঐকমত্যে এই চুক্তি ২০২০ সাল থেকে কার্যকর হবে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী ১০ বছরে পুনরায় আলোচনার প্রয়োজন হবে না।
ফরাসি কূটনীতিক তুবিয়ানা বলেন, জাতিগুলোর কাজের নিয়মিত প্রতিবেদন প্রদানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ঐকমত্য এসেছে। বিস্তারিত অনেক কাজ এখনো বাকি রয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশের মেয়ররা পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন। যাতে বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন সত্য এবং মানবজাতির এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়াটা নৈতিক দায়িত্ব। অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাদ ‘সামিট অব কনশান্স ফর দ্য ক্লাইমেট’ এ দেয়া বক্তব্যে বলেন, একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী চুক্তির উপায় অবশ্যই বের করতে হবে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট ফ্যাবিয়াস, যিনি বছরের শেষে জাতিসংঘের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন তার মতে, এ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক গঠনমূলক ছিলো। এই বৈঠক একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী জলবায়ু চুক্তি সম্পাদনের পথকে সুগম করবে।
