রাজধানীর কলাবাগানে ওবায়দুল হক খুনের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাসমিন খদিজা সোনিয়া (২৬) পুলিশ রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খুলছেন না। শনিবার পর্যন্ত তিনি স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রেমিক রুবেলের সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে দাবি করছেন সোনিয়া।
জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপক কুমার দাস বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্ত সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সোনিয়া ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে পড়াশোনা করছেন। তাই আইনের ফাঁক-ফোকর সব কিছুই তার জানা। এ কারণে রিমাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অনেক তথ্য এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কখনো কখনো অসুস্থতার ভাণ করেও থাকছেন। গ্রেফতারকৃত সোনিয়া তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ কারণে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করতে হচ্ছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি তিনি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। এ জন্য সাদামাটা জিজ্ঞাসাবাদে তিনি রুবেলের সঙ্গে পরকীয়ার কথা স্বীকার করলেও খুনের দায় নিচ্ছেন না।
সূত্র জানায়, বুধবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতারের পরদিন তিনি দিনভর কিছু মুখে দেননি। তাকে একাধিকবার খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি না খেয়ে থাকেন। গর্ভবতী হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে তার রক্তচাপ কমে যায়। এ জন্য তাকে রাতেই হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে শুক্রবার তিন দিনের রিমান্ডে আনার পর খাবার খেলেও জিজ্ঞাসাবাদে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সহায়তা করছে না। বিভিন্ন বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তথ্য-প্রমাণ তার সামনে হাজির করলে তিনি চুপ থাকেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন রাজধানীর কলাবাগানের সাকুলার রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ওবায়দুল হক। এ ঘটনায় পুলিশ মিঠু ও তানভীর নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান যে, এ হত্যার সঙ্গে সোনিয়ার প্রেমিক সাইফুল হাসান রুবেল জড়িত। সোনিয়ার পরিকল্পনায় তাদের মামা রুবেল এ হত্যার ঘটনায় ঘটায়। হত্যার সময় রুবেলের সঙ্গে পাপ্পু নামে তার আরো এক ভাগ্নে উপস্থিত ছিল। বর্তমানে রুবেল ও পাপ্পু পলাতক থাকলেও পুলিশ বুধবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে নিহতের স্ত্রী সোনিয়াকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসে।
