মায়া, হুদা, আমানসহ ৭ জনের আপিল পুনঃশুনানির আবেদন

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৫, ২০:০৭
 
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বিশেষ জজ আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ সাত জনের আপিল পুনঃশুনানির জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছে দুদক।
 
মায়া ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা, সাবেক বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমান এবং ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর আপিল রয়েছে ওই আবেদনের তালিকায়।
 
বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের ডিভিশন বেঞ্চে রবিবার এ আবেদন জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় এ সব আপিল পুনঃশুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানান খুরশীদ আলম খান।
 
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ১৩ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক নূরুল আলম সূত্রাপুর থানায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মায়ার বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির মামলা করেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে ২৯ লাখ টাকার সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
 
২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মায়াকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। সেই সঙ্গে তাকে পাঁচ কোটি টাকা জরিমানাও করে বিশেষ জজ আদালত। নিম্ন আদালতে বিচার চলাকালে আওয়ামী লীগের এই নেতা পলাতক ছিলেন। পরে তিনি নিম্ন আদালতের সাজার রায় বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট সাজার রায় বাতিল ঘোষণা করে মায়াকে খালাস দেয়। খালাসের এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে দুদক।শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে আপিল পুন:শুনানির নির্দেশ দেন।
 
২০০৭ সালের ৩ মার্চ দুদক ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সিগমা হুদার বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে নগরীর ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। এই মামলায় সেনা সমর্থিত জরুরি সরকারের আমলে বিশেষ জজ আদালত নাজমুল হুদাকে ৭ বছর ও তার স্ত্রীকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়। ২০০৭ সালের ২৬ আগস্ট দেয়া এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন তারা। ২০১১ সালের ২০ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বাতিল ঘোষণা করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে সরকার ও দুদক। আপিল বিভাগ গত বছরের ১ ডিসেম্বর হুদা দম্পত্তিকে খালাস সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দেয়।
 
জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বিএনপি নেতা ও সাবেক বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ৯ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩। ২০১১ সালের ১৬ জুন হাইকোর্ট আপিল মঞ্জুর করে টুকুকে খালাস দেয় আদালত। ওই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে দুদক। গত বছরের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করে আপিল বিভাগ।
 
২০০৭ সালে রাজধানীর কাফরুল থানায় আমান দম্পত্তির বিরুদ্ধে একই অভিযোগে মামলা করে দুদক। ওই বছরের ২১ জুন বিশেষ জজ আদালত আমানকে ১৩ বছর ও সাবেরাকে ৩ বছরের দন্ড দেয়। এই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আমান দম্পত্তি। ২০১০ সালে ১৬ আগস্ট ওই আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিশেষ জজ আদালতের সাজার রায় বাতিল ঘোষণা করে। একই সঙ্গে তাদেরকে খালাস দেয়। এই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে ৩ বছর ৩০ দিন পর গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোটে লিভ টু আপিল দায়ের করে দুদক। আদালত বিলম্বে লিভ টু আপিল দায়েরের আবেদন মঞ্জুর করে গত বছরের ২৬ মে হাইকোর্টের রায় বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে আপিল পুন:শুনানির নির্দেশ দেয়।
 
আপিল বিভাগের এই নির্দেশ মোতাবেক এসব আপিল পুনঃশুনানির জন্য হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক।