আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২৫

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৫, ১৫:৫২
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দু’গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে সোমবার সকাল নয়টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
 
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মতিউর রহমান জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
 
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দশরশিয়া বেলদার পাড়ার আনিস উদ্দিনের ছেলে তোফাজ্জল হকের নেতৃত্বে ওই গ্রামের কিছু মানুষ সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে গত ১৭ জুলাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার আয়োজন করে। কিন্তু একই গ্রামের বিএনপি-জামায়াত থেকে সমপ্রতি আওয়ামী লীগে যোগদানকারী মুনসুর আলী ও একরামুল হক এতে বাঁধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরবর্তীতে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান টিপুর মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষ এই বিষয় নিয়ে আর কোন গন্ডগোল করবে না বলে অঙ্গীকার করে। কিন্তু আজ সকাল নয়টার দিকে মুনসুর আলী ও একরামুল হকের সমর্থকরা ককটেল, লাঠিসোঠা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা তোফাজ্জল হকের সমর্থকদের বাড়ীঘরে হামলা করলে দু’পক্ষের সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ প্রায় ১০/১২টি ককটেলের বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। প্রায় ১০/১৫টি বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। সংঘর্ষে দুই নারীসহ ২৫জন আহত হয়েছেন।
 
এদের মধ্যে হাবিবুর রহমান (৫৫) ও রফিকুল ইসলামকে (৫০) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মনিরুল ইসলাম (২৩), নাইমুল হক (২৫), শহীদুল ইসলাম (২০). সেলিনা বেগম (১৮), জোস্না বেগম (৪০), জহুরুল ইসলাম (২৪), কামরুজ্জামান(৩৩), জামিরুল ইসলাম (২৪), হযরত আলী (৪৫), ওহিদুল্লাহ (৩৫) ও সোলায়মান আলীকে (৬০) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আহত গৃহবধূ জোস্না বেগম (৪০) ও দুলিয়ারা (২৬) বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তারা আওয়ামী লীগের পুরাতন সমর্থক হওয়ার কারণে বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা নব্য আওয়ামী লীগাররা তাদের উপর হামলা করেছে।
 
ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আক্তারুজ্জামান টিপু অভিযোগ করেছেন, বিএনপি-জামায়াত থেকে আসাদের দাপটে আওয়ামী লীগের পুরাতন  ও ত্যাগী কর্মী সমর্থকরা এখন অসহায় এবং পুলিশ সন্ত্রাসীদের পক্ষে কাজ করছে।