হাজীগঞ্জে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে 'এইড ফাউন্ডেশন' উধাও

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৫, ১৬:০৬


চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে ‘এইড ফাউন্ডেশন’ নামের একটি এনজিও উধাও হয়ে গেছে।

ঈদের ছুটির পর থেকে কার্যালয়টির দরজায় তালা ঝুলানো রয়েছে। গ্রাহকরা প্রতিদিন কার্যালয়ে এসে কাউকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

সোমবার দুপুরে সংস্থাটির কার্যালয়ে যেয়ে দেখা যায়, ৫০/৬০ জন নারী-পুরুষ সেখানে একত্রিত হয়েছেন। তারা সবাই উপজেলার বড়কুল (পূর্ব) ইউনিয়নের বড়কুল গ্রামের হত দরিদ্র বাসিন্দা।
 
কয়েকজন গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাবের বই ঘেটে দেখা গেছে, এইড ফাউন্ডেশনের পূর্ণ নাম আল আরাফাহ ইনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারের তালুকদার ভবনের ২য় তলায় এটির কার্যালয় অবস্থিত। ২০১০ সালে এটির কার্যক্রম শুরু হয়।

শাহানারা নামের একজন নারী জানান, তিনি ২০১০ সালের ১৩ মার্চ সংস্থাটির সদস্য হন। মাসে এক হাজার টাকা হারে এ পর্যন্ত ৩২ হাজার টাকা জমা রেখেছেন। তাকে ছয় বছর পর দ্বিগুন টাকা দেওয়ার চুক্তিপত্র হয়।
 
শিরিনা আক্তার নামে আরেকজন গ্রাহক জানান, ২০১২ সালে সদস্য হয়ে মাসিক ২০০ টাকা হারে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৪০০ টাকা জমা রেখেছেন।

একই গ্রামের মিজানুর রহমান মাসিক দুই হাজার টাকা হারে ৯৮ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। তার হিসাব নং ১৩১৭। এ ছাড়া আরেকটি হিসাবে তিনি ২০০ টাকা মাসিক জমা রেখেছেন। ফিরোজা বেগম ২০০ টাকা হারে চার হাজার টাকা জমা দিয়েছেন।
 
এসব গ্রাহকদের অভিযোগ, ঈদের দুইদিন আগেও ওই সংস্থার কৃষ্ণ বাবু নামের একজন তাদের কাছ থেকে মাসিক সঞ্চয়ের টাকা এনেছেন। ঈদের পর থেকে সংস্থার কর্তা ব্যক্তিরা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে ঘা ঢাকা দিয়েছেন।

তারা আক্ষেপ করে বলেন, এখন আমরা কোথায় গেলে এর প্রতিকার পাব।

সংস্থাটির সদস্য ও আশেপাশের মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সংস্থাটির সদস্য সংখ্যা প্রায়  দুই হাজার। তাদের মতে এসব সদস্যের কাছ থেকে সংস্থাটি কোটি টাকার মতো আমানত সংগ্রহ করেছেন।

ভবনের মালিক আনিছুর রহমান তালুকদার জানান, ঈদের ছুটির পর সংস্থাটির লোকজন আর কার্যালয়ে আসেননি। তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বারগুলি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমি তাদের কাছে ভাড়া ও ঋণ বাবদ ১২ লাখ টাকার মতো পাওনা আছি।

ভবনের মালিক ও একাধিক গ্রাহকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মুদাফ্ফরগঞ্জ এলাকার ইব্রাহিম খলিল নামের এক ব্যক্তি সংস্থাটি পরিচালনা করতেন। তিন মাস আগে তিনি কাতার চলে গেছেন। হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন মকিমাবাদ গ্রামের আজাদ হোসেন সংস্থাটির কোষাধ্যক্ষ ও একই গ্রামের শ্রীকৃষ্ণ নামের একজন সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের টাকা আদায় করতেন।

গ্রাহকের কাছ থেকে এ তিনজনের মোবাইল ফোন নাম্বার নিয়ে একাধিক বার চেষ্টা করে নাম্বারগুলা বন্ধ পাওয়া গেছে।
 
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মমতাজ দৌলতানা বলেন, ওই সংস্থাটি আমার আওতাধীন নয়। এটি সমবায় কার্যালয়ের অধিনে।

তবে সমবায় কর্মকর্তা আলো রানী সরকার মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, এইড ফাউন্ডেশন নামের কোন সংস্থা আমার কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নেয়নি।

তারা কিভাবে এখানে কার্যক্রম চালিয়েছেন এ প্রশ্নের জবাবে আলো রানী বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসন ভাল বলতে পারবে।