সীমান্ত দিয়ে গরু-মহিষ আসা বন্ধ, মাংসে আগুন

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৫, ২১:১০

শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ আসা কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে সীমান্তের পশুহাট ও খাটালের ওপর। গরু আনা-নেয়ার রাখাল, গরু ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, পশুহাট ও খাটালের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সীমান্তের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লোক বেকার হয়ে পড়েছেন।

ভারত থেকে গরু আসা কমে যাওয়ায় ২৫০ টাকার গরু ও মহিষের মাংস এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকায়। আর ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হওয়ার কারনে আগামী কোরবানীর বাজারে তার প্রভাব পড়বে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের যশোর অঞ্চলের করিডোর দিয়ে গরু আসা গত পাঁচ মাসে ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে বলে বিজিবির কর্মকর্তারা জানান।

পুটখালী গরুর খাটাল নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, এ রকম চলতে থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ভারত সীমান্ত দিয়ে গরু আসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। সীমান্তে বসবাসকারী বেকার মানুষের অনন্ত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ফেনসিডিল বা ইয়াবার মতো মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়বে। গরু আসা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়বে চামড়া শিল্পেও। দেশের চামড়া কারখানাগুলোর উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসবে। বাংলাদেশে ভারতীয় গরুর সবচেয়ে বড় খাটাল বেনাপোলের পুটখালী সীমান্তে অবস্থিত। ভারত থেকে প্রতিদিন এই গরুর খাটালে গড়ে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার গরু আসতো। কিন্তু এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে শূন্যের কোটায়। আর আগামী কোরবানীর ঈদ বাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

যশোরের নাভারন গবাদি পশু শুল্ক করিডোরের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পুটখালীর সিমান্তের বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের আংরাইল সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে এসে গরু পাচার বন্ধ করার জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) প্রধান আশিষ মিত্রকে নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে গরু আসা বন্ধ হয়ে যায়। যশোরের নাভারন পশু শুল্ক করিডোরের হিসেব মতে গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাঁচ মাসে শুল্ক আদায় করা হয়েছিল এক লাখ ৫০ হাজার ৩২০ টি পশুর। অথচ চলতি বছরের একই সময় ওপার থেকে এসেছে মাত্র ১৯ হাজার ৭৯৭ টি পশু। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর বেনাপোল-শার্শার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে গরু এসেছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৬শ ৮৫ টি, অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে গরু আসার সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৩শ ৮টি। আর বর্তমান সময়ে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯শ ৬০ টি।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুহাট হচ্ছে শার্শার বাগআঁচড়ার সাতমাইল। এই হাটের ৯০ শতাংশ গরু ভারতীয়। সর্বোচ্চ আদালতে মামলা থাকায় হাটটির বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের। গতবছর প্রতিহাটে গড়ে পশু বেচাকেনা হতো ১৭ হাজার ৩শ ৮৪ টি, অথচ ভারত থেকে গরু আসা কমে যাওয়ায় এখন বেচাকেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে গড়ে এক হাজার দুইশতে।

এ বিষয়ে ২৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুর রহিম বলেন, যশোর সীমান্তের পুটখালী, অগ্রভুলোট, গোগা ও রুদ্রপুর করিড়োর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার গরু আসতো। এখন আসছে মাত্র পঞ্চাশ থেকে একশটি। এত দিন সীমান্তের হাজার হাজার মানুষ এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর সঙ্গে জড়িত লোকজন বিকল্প পেশায় ঢোকার চেষ্টা করছে। অনেকে চোরাচালানে জড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করে তিনি বলেন, এতে করে ফেনসিডিলের মতো মাদকদ্র্রব্যর চোরাচালান বেড়ে যাবে।