১০ টাকা বেতনে পাঁচ বছর ধরে কোরআন শিক্ষা দিচ্ছেন বিধবা নারী

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৯, ১৭:৫৭

ভোলার তজুমদ্দিনে মাসিক জনপ্রতি ১০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করে মক্তবের শিশুদের কোরআন শিক্ষা দিচ্ছেন এক বিধবা নারী। প্রায় ৩০ জন শিশু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে জরাজীর্ণ একটি টিনের ঘরে নিয়মিত কোরআন শিক্ষা দিয়ে আসছেন তিনি। বর্তমানে মক্তবের ঘরটি  জরাজীর্ণ হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয় কোরআন শরীফ ও আরবি কিতাবসহ বিছানাপত্র। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৪০ বছর আগে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মোল্লা গ্রামের লেদু করাতী বাড়ির দরজায় মরহুম আসলাম মুন্সী ধর্মীয় শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে শতাধিক শিশু নিয়ে মক্তবটি চালু করেন। সম্প্রতি এলাকাবাসীর উদাসীনতা ও আর্থিক সংকটের কারণে টিনসেডের ঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। নির্ধারিত বেতন দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষক স্থানীয়ভাবে নিয়োগ দেওয়া যায়নি। মক্তবের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পাঁচ বছর আগে গ্রামের কোমলমতি শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পড়ানোর দায়িত্ব নেন বিধবা নুরজাহান বেগম।

আরো পড়ুন: ভারতের সাবমেরিন আটকে দিল পাকিস্তান

মক্তবের শিক্ষার্থী হাফসা, আ. রহিম, মালেকাসহ কয়েকজন বলেন, আমরা মাসে ১০ টাকা করে দেই। কেউ কেউ না দিয়েই মক্তবে পড়ে।

এলাকাবাসী মো. হানিফ ও নুরুল হক জানান, নিশানা স্বরূপ মক্তবটি দাঁড়িয়ে আছে। আর্থিক অনটনের কারণে মক্তবটি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। শিশু শিক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে স্থানীয় ও সরকারিভাবে মক্তবটিতে অনুদান প্রয়োজন।

মক্তবের শিক্ষিকা নুর জাহান বেগম জানান, যখন যে যা দেয় তাই নেই। তবুও ধর্মীয় শিক্ষা চালু রেখে শিশুদের আদর্শবান করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।  তবে মক্তবটি ভালোভাবে চালু রাখতে দরকার সরকারি ও স্থানীয় অনুদান। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ