রাজধানীর খিলক্ষেতে নির্মম নির্যাতনের পর কিশোর নাজিমউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারভূক্ত আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করছে র্যাব। মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে এক ক্ষুদে বার্তায় জানিয়েছে র্যাব-১।
এতে বলা হয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাকে সনাক্ত করার পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সুত্রমতে, চলতি বছরের ১২ এপ্রিল বন্ধু রাজনের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয় নাজিমউদ্দীন (১৫)। এরপর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। ঘটনার তিনদিন পর নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে তার লাশ ভেসে ওঠে। প্রথমে অজ্ঞাত হিসাবে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তারা জানতে পারেন ওই লাশ নাজিমউদ্দিনের। এই ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় একটি হত্যা মামলা করে নাজিমের বাবা জালাল উদ্দিন। মামলাটি পরে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটকও করে। কিন্তু ঘটনার প্রায় তিন মাস পর নাজিমউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের নির্মম একটি ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছাড়া হয়। যা দেখে হতবাক হয়ে যায় প্রশাসনসহ দেশবাসী। নড়েচড়ে বসে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
‘প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বালু নদীর পাড়ে প্রায় আধমরা শরীরে নাজিমউদ্দীন পড়ে আছে। তার হাত পা বাঁধা। চারপাশে ঘাতকদের উল্লাস। কেউ আবার নাজিমউদীনের উপর নির্যতনের দৃশ্য মোবাইলের ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ড করছে। নির্যতনের এক সময় নাজিম ঘাতকদের কাছে পানি খেতে চায়। তখন হাত-পা বাঁধা অবস্থাতেই ফেলে দেয়া হয় নদীর পানিতে। বলা হয় নদীতে গিয়ে ‘যত খুশি তত পানি খা’। তিলে তিলে মৃত্যুর দৃশ্য দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন উপস্থিত হামলাকারীরা। সেদিন পৈশাচিক এই ঘটনাটি অনেকেই দেখেছিলেন। নাজিমের নিথর দেহটি ধীরে ধীরে পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছিলো। শরীরে শক্তি ছিলো না। তারপরও পানি থেকে নাক জাগিয়ে বাঁচার জন্য চেষ্টা করছিলেন। এতসব ঘটনা দেখেও কেউ তাকে পানি থেকে তুলে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি।
