ভারত জুড়ে আতঙ্ক নিরাপত্তা জোরদার

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৫, ০০:১৮

গোয়েন্দা ও আইন শৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে ভারতের পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরে সন্ত্রাসীরা সফলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম হওয়ায় দেশের অন্যান্য স্থানেও হামলা হতে পারে এমন আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। কোনো কোনো মহল থেকে এই ঘটনাকে গোয়েন্দা ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আর যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটতে পারে সে লক্ষ্যে সারা দেশে হাই এলার্ট জারি করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে কিভাবে এমন বড় পরিকল্পনা নিয়ে জঙ্গিরা ভারতে প্রবেশ করল।

 
এদিকে, ভারতে হামলাকারীরা যে পাকিস্তান থেকে প্রবেশ করেছিল তার প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির পুলিশ। জঙ্গিদের ব্যবহূত গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশের দাবি।
 
সোমবার গুরুদাসপুরে চলন্ত বাস, টেম্পো, থানা ইত্যাদি অবস্থানে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে সামরিক বাহিনীর পোষাক পরিহিত জঙ্গিরা। নিরাপত্তারক্ষী ও জঙ্গিদের মধ্যে প্রায় ১২ ঘণ্টার গুলির লড়াই চলে। জঙ্গিদের হামলায় পুলিশসহ মোট ১১ জন নিহত হয়। প্রায় দু’দশকের কাছাকাছি বড় কোনও জঙ্গি হামলার সাক্ষী না হওয়া পাঞ্জাবে সোমবার সেনার বেশে আঘাত হানে জঙ্গিরা। দিনভর গুলির লড়াইয়ের শেষে তিন জঙ্গিই নিহত হয়। গতকাল পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তবে হামলা চালানোর ধরন দেখে ভারতের সন্দেহ, এর পিছনে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা বা জইশ-ই-মুহাম্মদের হাত থাকতে পারে। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, প্রয়োজনে সাহায্যের জন্য তৈরি রাখা হয়েছে কমান্ডো বাহিনীকে। তারা আরো জানায়, জঙ্গিদের কাছে ছিল একে-৪৭, চীনা প্রযুক্তিতে তৈরি গ্রেনেড, প্রচুর গুলিগোলা এবং জিপিএস ডিভাইস। তারা আরো জানায়, জঙ্গিদের কাছ থেকে যে পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া গেছে তাতে পরিষ্কার, লম্বা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়েই তারা এসেছিল।
 
গুরুদাসপুরে এখনো আতঙ্ক: জঙ্গি হামলার খবর ছড়াতেই আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে গোটা গুরুদাসপুর জেলায়। ঘটনার পরপরই সমস্ত স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে জানান রাজনাথ সিং। এদিকে, পাকিস্তান দাবি করেছে, এই হামলার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে মোদী-শরিফ বৈঠকের এক মাসও না পেরোতে এই ঘটনায় নয়াদিল্লি যে কড়া অবস্থান নিতে চলেছে, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজনাথ। ইসলামাবাদকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে গতকাল বলা হয়েছে, ‘আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি চাই, সে কথা ঠিক। কিন্তু সেটা কখনওই জাতীয় মর্যাদার বিনিময়ে নয়।’ এদিকে, এই ঘটনাকে গোয়েন্দাদের ব্যর্থতা বললেও পাঞ্জাব সরকারের সঙ্গে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে কেন্দ্রের গোয়েন্দারা। তাদের দাবি, সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার ব্যাপারে সতর্ক করে একাধিক রাজ্যের কাছে বার্তা দিয়েছিলেন তারা। যদিও তাতে আলাদা করে পাঞ্জাবের নাম করা হয়নি।
 

পাকিস্তান থেকে প্রবেশ: জঙ্গিরা যে পাকিস্তান থেকেই ভারতে ঢুকেছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে পাঞ্জাব পুলিশ। তারা জানায়, নিহত তিন জঙ্গির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেস বা জিপিএস। তা থেকেই নিশ্চিত হওয়া গেছে হামলাকারীরা পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাঞ্জাবের দিননগরে ঢুকেছিল।