এটা এই সিরিজের শেষ ম্যাচ। চট্টগ্রামের টেস্টটিতে আমরা যেভাবে এগোচ্ছিলাম, সেভাবে যদি আমরা এখানেও খেলতে পারি, তাহলে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য সব মিলিয়ে খুব ভালো একটি সিরিজ হবে।
বাংলাদেশের টেস্ট পারফরম্যান্সও কী এখন একটা মানে পৌঁছাচ্ছে?
টেস্টে আমরা এখনো খুব বড় কিছু অর্জন করিনি। কিন্তু এখন আমরা আগের চেয়ে ভালো খেলছি। প্রতিপক্ষের সাথে এখন আমরা লড়াই করতে পারি। উইকেট কেমন আচরণ করবে, সে বিষয়ে সবারই ধারণা আছে। সেটা মাথায় রেখেই খেলতে হবে। আরো যেটা গুরুত্বপূর্ণ, প্রথম সেশনটা আমাদের খুব ভালো করতে হবে। পরে ওই ছন্দটা ধরে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে আশা করি এই ম্যাচটি একটা ভালো টেস্ট ম্যাচ হবে।
চট্টগ্রাম টেস্টে কী আমরা এগিয়ে ছিলাম?
চট্টগ্রাম টেস্ট সমতায় ছিলো। দুটি দিন খেলা হয়নি; হলে, যে কোনো দিকে ফলাফল যেতে পারতো। দক্ষিণ আফ্রিকা শক্তিশালী দল। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে তারা খুবই ভালো। ওদের সাথে লড়তে হলে আমাদেরও সেরাটা খেলতে হবে। আমরা ঢাকা বা চট্টগ্রাম, যেখানেই খেলি না কেনো সেরাটাই খেলতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
আপনারা জয়ের আশা করছেন না?
এটা খুবই কঠিন হবে। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টে খুবই শক্তিশালী দল। এরপরও ক্রিকেটে যে কোনো কিছু হয়ে যেতে পারে। আমরা ওয়ানডেতে খুব ভালো খেলছি। পরে চট্টগ্রাম টেস্টেও আমরা ভালো খেলেছি। সামনের টেস্টের প্রথম সেশনটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম সেশনটা আমাদের পক্ষে নিতে পারলে, সেটা আমাদের কাজে লাগবে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে খুব বেশি সুযোগ দেয়া যাবে না। আমরা সেভাবেই চেষ্টা করবো। তাদের প্রতিটি বোলারই বিশ্বমানের। চট্টগ্রামে পেসারদের জন্য কিছু ছিলো না। তাদের বিশেষ কোনো বোলারের নাম নিতে পারছি না। ঢাকায় চট্টগ্রামের চেয়ে বেশি সুবিধা পাবে তারা। কতোটুকু সুবিধা পাবে, সেটা ম্যাচের পর বলতে পারবো!
সেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ওপেনিং জুটি কতোটা বড় করা প্রসঙ্গে?
চট্টগ্রামে যে উইকেট ছিলো, সেখানে রান করা কঠিন ছিলো। ওই ধরনের উইকেটকে আমি ‘ইজি টু ব্যাট, হার্ড টু স্কোর’ বলি। চট্টগ্রামে আমরা যারা সেট হয়েছিলাম, আমি, সাকিব, রিয়াদ ভাই, লিটন- আমাদের একজনের দায়িত্ব ছিলো স্কোরটা বড় করা। সেটা আমরা করতে পারিনি। পারলে চট্টগ্রাম টেস্টে আমরা আরো ভালো অবস্থানে যেতে পারতাম। ঢাকা টেস্টে এটাই করতে হবে। টেস্টে সেট হওয়াটা কঠিন। প্রথম ২০ রান করা সহজ, কিন্তু পরের ৪০ রান করা ততোটা সহজ নয়। টেস্টে প্রথম ২০ রান করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি হই বা দলের যেই হোক, শুরুটা যদি ভালো হয়, ইনিংস যতোটা বড় করা যায় সে চেষ্টা করতে হবে। কেউ বড় ইনিংস খেলে দিলে অন্যদের জন্য কাজ সহজ হয়ে যায়।
ভালো খেলতে খেলতে আউট হয়ে যাওয়াটা কতোটা হতাশার?
আমার মনে হয়, পুরো ইনিংসে একটা বলেই আমি ভুল করেছিলাম। ওই শটটা আমার খেলা উচিত হয়নি। এ ছাড়া বাকি কোনো বলে আমার মনে হয় না, সে রকম কিছু করেছিলাম। আউট হওয়ার জন্য আসলে একটা বলই দরকার! তারপরও আমি চেষ্টা করবো দেখেশুনে খেলতে। একই সাথে নিজের শটগুলোও তো খেলতে হবে। আমি যদি আমার পছন্দের শট খেলতে গিয়ে আউট হই, তাহলে আমার কোনো দুঃখ নেই।
টেস্টে কী বিশেষ মন দিতে হয় কোনো বিভাগে?
ওয়ানডেতে কোনো একটা দিকে খারাপ হলে, অন্য দিকে ভালো খেলে সেটা পুষিয়ে নেয়া যায়। কিন্তু টেস্টে সব দিকেই ভালো কিছু করতে হবে। আমরা যতোই রান করি, পরে যদি ২০ উইকেট নিতে না পারি, তাহলে ফলাফল আমাদের পক্ষে আসবে না। বোলিংয়ে ওদের উইকেট দ্রুত ফেলতে হবে, ব্যাটিংয়ে আবার উইকেট ধরে রাখতে হবে। বড় জুটি গড়তে হবে। সুতরাং টেস্টে কোনো একটা দিককে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়ার সুযোগ নেই। চট্টগ্রামে পেসারদের জন্য কিছুই ছিলো না। তারপরও মু্স্তাফিজ-শহিদ যেভাবে বোলিং করেছে, তা দারুণ ছিলো। যা হোক, আমাদের সব দিকে খুব মনোযোগ দিয়ে ভালো করে খেলতে হবে।
