বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব সংকট কাটাতে বনাঞ্চল উজাড় হওয়া ঠেকানোর কোন বিকল্প নেই। সেইসঙ্গে বাঘের খাবারের অভাব দূর করা এবং বাঘ শিকার কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা ও পরিবেশবিদরা। গতকাল বুধবার বিশ্ব বাঘ দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
‘বাঘ বাঁচলে বাঁচবে বন, রক্ষা হবে সুন্দরবন’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গতকাল বাংলাদেশে পালিত হলো বিশ্ব বাঘ দিবস। বাঘ রয়েছে বিশ্বের এমন ১৩টি দেশ বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম ও রাশিয়ায় বুধবার দিবসটি পালিত হয়েছে। বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে এবারও সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা, মংলা, খুলনা ও সাতক্ষীরায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করে বনবিভাগ।
যে বাঘ রক্ষায় এই দিবস- গত কয়েক দশকে সুন্দরবনে সেই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। সমপ্রতি বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব- শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা এখন মাত্র ১০৬টি। এর আগে ২০০৪ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সহায়তায় বনবিভাগ বাঘের পায়ের ছাপ গুনে জরিপ করে বলেছিল, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৪৪০টি। ২০১৩ সালে ‘ক্যামেরা ট্যাপিং’ পদ্ধতিতে সুন্দরবনে বাঘ গণনা শুরুর পর ওই জরিপ কিছুটা ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে প্রশ্ন ওঠে। বাঘ শুমারির চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশ মিলে ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের সুন্দরবনে মোট বাঘের সংখ্যা ১৭০টি।
খুলনা অফিস জানায়, বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকালে নগরীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও খুলনা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বুধবার সকালে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শোভাযাত্রা মুন্সিগঞ্জ বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সুশীলন কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটের শরণখোলায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও পট সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন ও সুন্দরবন বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সকালে শোভাযাত্রা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা মিলনায়তনে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা এসিএফ মো. কামাল উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
