চির নিদ্রায় শায়িত হলেন ভারতের জনগণের রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরিচিত এবং বিজ্ঞানসাধক এপিজে আবদুল কালাম। তামিলনাড়ুর নিজ শহর রামেশ্বরমে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। তাকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ। আর এদের নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শেষবারের মতো কালামকে শ্রদ্ধা জানাতে কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীসহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং রাজনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন। কালামের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। খবর এনডিটিভি’র।
অসুস্থ থাকার কারণে নিজের রাজ্য হলেও আসতে পারেননি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা তাকে প্রতিনিধিত্ব করছেন তার ক্যাবিনেটের সাতজন মন্ত্রী। গতকাল সকালে পেইকারুম্বুতে ধর্মীয় প্রথা মেনে কালামের মরদেহ সেখানে নিয়ে আসেন সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানগণ।
জাতীয় পতাকায় মোড়া কালামের মরদেহে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি মরদেহের চারপাশে একবার চক্কর দেন। তাকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ বাস, ট্রেন এবং নৌকায় করে আসেন। অনেকে আবার হেঁটে হেঁটে আসেন এবং রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন। শ্রদ্ধা জানানো শেষে তার মরদেহ একটি মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে কবরে শায়িত করে শেষ বিদায় জানানো হয়।
গত ২৭ জুলাই সোমবার মেঘালয়ের শিলংয়ে আই আই এমে এক সেমিনারে ভাষণ দিতে গিয়ে হূদরোগে আক্রান্ত হন ড. কালাম। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। শিলং থেকে গুয়াহাটি হয়ে দিল্লিতে পৌঁছায় তার মরদেহ। দিল্লি থেকে বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে মাদুরাই পৌঁছে দেয়া হয় দেহ। সেখান থেকে তার শহর রামেশ্বরমে। মরদেহের সঙ্গে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর।
দাফন অনুষ্ঠানে কালামের পরিবারের সকলেই উপস্থিত ছিলেন। এমনকি তার ৯৯ বছরের বোন মহম্মদ মুত্থু মীরা লেবাই মারাইকারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাত দিনের শোক পালন চলছে। তবে কর্মনিষ্ঠ কালামকে শ্রদ্ধা জানাতেই কোনো ছুটি ঘোষণা হয়নি। ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর রামেশ্বরমে এ পি জে আবদুল কালাম দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা নৌকা চালাতেন। শৈশবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে খবরের কাগজ বিলি করতেন কালাম। পরে বিজ্ঞানে তাঁর অসামান্য কৃতিত্বের জন্য বারবার সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছেন। ভারতের পরমাণু বিজ্ঞানে উত্তরণ তাঁরই হাত ধরে। ইসরো, ডি আর ডি ও-তে কর্মরত ছিলেন বিভিন্ন সময়ে। বিজ্ঞানে তাঁর অবদানের জন্য প্রথমে পদ্মভূষণ ও পরে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হন। রাষ্ট্রপতি হিসেবেও তাঁর মেয়াদ ছিল স্মরণীয়। তিনি ছিলেন জনতার রাষ্ট্রপতি। পড়ুয়াদের বিশেষ পছন্দ করতেন। খ্যাতিমান বিজ্ঞানী হলেও শিক্ষকতা ছিল তাঁর প্রিয় কাজ। আর তাইতো পড়াতে পড়াতেই চিরবিদায় নেন কালাম।
ওবামা ও পুতিনের শোক
বুধবার প্রকাশিত বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের মৃত্যুতে আমেরিকার মানুষের হয়ে ভারতীয়দের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি ছিলেন একাধারে বিজ্ঞানী, দেশনেতা, খুব সাধারণ অবস্থা থেকে শুরু করে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অন্যতম হয়ে উঠে দেশে-বিদেশে বিশেষ সম্মানের অধিকারী হয়েছিলেন তিনি।
পুতিন বলেন, ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক তৈরি ও বজায় রাখায় কালাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ভারতের সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও অগ্রগতিতে তার অবদানের কথা যতো বলা হোক তা কম হবে।
