চলতি সপ্তাহে জিম্বাবুয়েতে সুপরিচিত সিসিল নামের এক সিংহকে হত্যার পর অনলাইন দুনিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। একজন মার্কিন পর্যটকের বিরুদ্ধে সিংহটিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, ১৩ বছর বয়সী সিংহটি জিম্বাবুয়ের হোয়াঙ্গি ন্যাশনাল পার্কের সবচেয়ে সুপরিচিত বন্যপ্রাণীগুলোর মধ্যে একটি। মার্কিন দন্ত চিকিত্সক ওয়াল্টার জে. পামার রাতের বেলা তীর-ধনুক এবং বন্দুক দিয়ে সিংহটিকে হত্যা করেন। এই খবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। সিংহটিকে হত্যার দায়ে ওয়াল্টার পামারের বিচার দাবি করে অনলাইনে এক আবেদনে সই করেছেন আড়াই লাখের বেশি মানুষ। যদিও মার্কিন ধনী পর্যটকদের সিংহ শিকার নতুন কিছু নয়।
আফ্রিকাতে বিনোদনকালেই বেশির ভাগ সিংহকে হত্যা করা হচ্ছে। ২০১১ সালে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এনিম্যাল ওয়েলফেয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সাল মার্কিন পর্যটকেরা শিকার করা সিংহের মাথা, চামড়াসহ অনেক কিছু বিজয়চিহ্ন (ট্রফি) হিসেবে দেশে নিয়ে গেছে। যা ওই সময়ে আফ্রিকায় আনন্দ-বিনোদনকালে শিকার করা সিংহের সংখ্যার ৬৪ শতাংশ। এই সংখ্যা আরো বাড়ছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মত্স্য ও বন্যপ্রাণী সেবা বিভাগ আফ্রিকার সিংহকে বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় তুলতে অস্বীকার করে। এটা হলে সিংহের চামড়া, মাথার মতো জিনিসগুলো আমদানি নিষিদ্ধ করা সম্ভব হতো। কিন্তু তারা সিংহকে হুমকির মুখে থাকা প্রাণীর তালিকাভুক্ত করেছে যে কারণে দেশের ভেতর সিংহের শরীরের বিভিন্ন অংশের বাণিজ্য চলমান রয়েছে। সাফারি ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, পামার যে ক্লাবের সদস্য তারা এই উদ্যোগকে শিকারীদের বিজয় উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছিলো। এই ক্লাবটি তাদের ওয়েবসাইটে বড় পশু শিকারের নানাবিদ তথ্য উপস্থাপন করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে এসব সিংহ শিকারের জন্য তেমন কোনো দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিকারী পর্যটকরা স্থানীয় ও পেশাদার শিকারীদের সুযোগ সহায়তা নিয়ে থাকে।
