‘স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রচারে পঁচাত্তরে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে’

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৫, ১৯:৪৪
 
দেশের রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনঃনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর কঠোর পদক্ষেপ, অনিবন্ধিত অস্ত্র, রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অপপ্রচারের কারণে পঁচাত্তরে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিলো।
 
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন এবং ষাটের দশকের ছাত্রনেতা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বঙ্গবন্ধুর স্মরণে বাসসকে দেয়া সাক্ষাতকারে এ মতামত ব্যক্ত করেন।
 
তাদের মতে, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তি তখনও গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো। তার সাথে যুক্ত হয়েছিলো লাইসেন্সবিহীন অস্ত্রের ব্যবহার। সর্বোপরি বঙ্গবন্ধু দেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষের দিকে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তারা বলেন, এ সবকিছুর সুযোগ নিয়ে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে শোকাবহ ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
 
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘১৯৭২-১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসীন হলো, স্বভাবত:ই সেসময় দেশে পরাজিত শক্তি যারা ছিলো তারা নানা রকম চক্রান্তের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলো। তারই ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ এবং আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এ কারণেই বঙ্গবন্ধু শেষ পর্যন্ত কঠোর হতে বাধ্য হন।’
 
মেননের মতে, বঙ্গবন্ধুর এই কঠোরতা দেশের কল্যাণে প্রয়োজন থাকলেও তাঁর চারপাশের মানুষরাই নিজেদের স্বার্থে বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে চলে যান। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাঁর কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর সুযোগ নিয়েই স্বাধীনতা বিরোধী পরাজিত শক্তি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ডের মধ্যে দিয়ে এই পরাজিত শক্তিরই উত্থান ঘটে।
 
ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘তখন একটা বড় সমস্যা ছিলো অনেক মানুষের হাতে অস্ত্র। যার কোনো হিসেব নেই। এই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করাটা কঠিন কাজ ছিলো। অনেকেই অস্ত্র জমা দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা করেছেন। কিন্তু অস্ত্র জমা দেন নাই। যেহেতু বঙ্গবন্ধু সবাইকে বিশ্বাস করতেন। তাই যখন তারা এসে বলতো আমরা অস্ত্র জমা দিলাম, তখন তিনি বিশ্বাস করতেন।’
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনের মতে, একটি সদ্যপ্রসূত দেশকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত করতে যত ধরনের উদ্যোগ নেয়া দরকার ছিলো ১৯৭৫ সালের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, শিল্প-কারাখানা স্থাপনসহ অনেক কর্মকাণ্ডেই তার প্রতিফলন ঘটেছিলো। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অপপ্রচার ও স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্ত সব ধ্বংস করে দেয়।
 
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বঙ্গবন্ধুর সাথে বিভিন্ন আলাপচারিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি বড় কারণ ছিলো রাজনৈতিক।’ তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে তখন আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির মারাত্বক অবনতি হয়েছিলো। জাসদের উগ্র তত্পরতা, নকশালদের তত্পরতা, সিরাজ শিকদারের নেতৃত্বে উগ্র তত্পরতা-এসবকিছুকে মোকাবেলা করার জন্য বঙ্গবন্ধু কঠোর হতে চেয়েছিলেন।’

খবর বাসসের।