বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পর দুই দেশের ম্যাপ থেকে মুছে গেছে ছিটমহল। কিন্তু গুগল ম্যাপে এখনো এই ছিটমহলগুলোর অস্তিত্ব বিদ্যমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, ১৯৭৪ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তি ও ২০১১ সালের প্রটোকল অনুসমর্থনের দলিল বিনিময়ের ফলে ১ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা (ভারতের-সাবেক) ১১১টি ছিটমহলের মালিক বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারতের ভেতর থাকা (বাংলাদেশের-সাবেক) ৫১টি ছিটমহলের মালিক ভারত। ফলে বদলে যায় বাংলাদেশ ও ভারতের মানচিত্রও। এখন থেকে এগুলো আর ‘ছিটমহল’ বলে পরিচিত হবে না।
কিন্তু গুগল ম্যাপে (http://bit.ly/1M1WXjh) ঢুকে দেখা যায় এখনো সেখানে ছিটমহলগুলোর অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে। অর্থাৎ গুগল ম্যাপ সংশোধন করা হয়নি।
IMG0
গত ৩০ জুলাই তেজগাঁওয়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরে এক অনুষ্ঠানে উভয়দেশের ছিটমহলের ‘খণ্ড মানচিত্র’ (স্ট্রিপ ম্যাপ) হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভূমি মন্ত্রণালয় ১১১ ছিটমহলকে বাংলাদেশের অংশ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে। আপতত ছিটভিত্তিক নম্বর দিয়ে পরিচয় নির্ধারণ করা হবে।
১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভেঙ্গে ভারত ও পাকিস্তান নামক দু’টি রাষ্ট্র জন্মের সময় সীমারেখা নির্ধারণে লর্ড মাউন্টবেটন এর পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্রিটিশ আইনজীবী সিরিল রেডক্লিফকে প্রধান করে গঠন করা হয় সীমানা নির্ধারণ কমিশন। ওই বছরের ৮ জুলাই লন্ডন থেকে ভারতে আসেন রেডক্লিফ। এর ক’দিন পর ১৩ আগস্ট তিনি এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। ১৬ আগস্ট জনসমক্ষে তা প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ আছে গভীর ভাবনা চিন্তা ছাড়াই জমিদার, নবাব, স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও চা-বাগানের মালিক দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সময় না নিয়েই সীমানা মানচিত্র তৈরি করা হয়।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান ও ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা পেলেও অনেক পরে স্বতন্ত্র রাজ্য কুচবিহারের মহারাজা নারায়ণ ভুপ বাহাদুর পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত হন। ভারত ও পাকিস্তান অংশে বিভিন্ন মৌজায় রাজার খাস খতিয়ানভুক্ত জমি ভারতের অধীনে চলে গেলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লালমনিরহাটে ৫৯টি, পঞ্চগড়ে ৩৬টি, কুড়িগ্রামে ১২টি, নীলফামারীতে ৪টি মোট ১১১ টি ছিটমহল ভারতের অংশ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের কাশিমবাজার স্টেটের মহারাজা শ্রীশ চন্দ্র নন্দী, কুড়িগ্রামের পাঙ্গারাজা শচীন চন্দ্র কোঙ্গার, দিনাজপুরের মহারাজা গিরীজা প্রসাদ, রংপুরের রাজা জগৎ ভূপেন্দ্র নারায়ণ ও নীলফামারীর মহারানী বৃন্দা রানী পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ভারতীয় ভূ-খণ্ডের অভ্যন্তরে বিভিন্ন মৌজায় অবস্থিত নিজস্ব খাস খতিয়ানভুক্ত জমিগুলো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায়। এর সংখ্যা ৫১ টি। এগুলো ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা ও তুফানগঞ্জ মহকুমার অভ্যন্তরে অবস্থিত।
এ প্রসঙ্গে গুগল ম্যাপিং বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী হাসান শাহেদ ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, "ছিটমহলগুলো সংযোজনের জন্য ম্যাপিং বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষ থেকে ম্যাপমেকার প্রধান সদরদপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। যে কোন দেশের আন্তর্জাতিক সীমানা এডিটের ক্ষমতা গুগল কেন্দ্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করে এবং তা সংশোধনের ক্ষমতা গুগল কাউকে শেয়ার করেনা। ম্যাপিং বাংলাদেশের অনুরোধের বিপরীতে গুগল জানিয়েছে তারা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রেখেছে এবং দুদেশের সরকারের সাথে কাজ করে সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে। তবে বিষয়টি সময় সাপেক্ষ বলে প্রক্রিয়া চলাকালীন সকল ম্যাপ ইউজারকে ধৈর্য্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে গুগল।"
