ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিকে ঘিরে আশঙ্কা, সন্ত্রাস মোকাবিলা ও আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) উপসাগরীয় দেশগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার কাতারের রাজধানী দোহায় জিসিসি সম্মেলনে অংশ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এ আশ্বাস দেন। এর বিনিময়ে ইরানের পরমাণু চুক্তিতে সস্মতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্ররা। খবর আলজাজিরা ও বিবিসির।
ইরানের সঙ্গে বিশ্বশক্তিগুলোর পরমাণু চুক্তিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি প্রভাব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জোট জিসিসি।
জিসিসি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের জন কেরি জানান, সিরিয়ায় চলমান সংঘাত নিরসনে, আইএসসহ (ইসলামিক স্টেট) অন্য সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর দমন ও ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির ফলে কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে, তা মোকাবিলায় জিসিসি দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
জিসিসি দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর কেরি জানান—এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে তারা সবাই একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে বিশ্বশক্তিগুলোর পরমাণু চুক্তির হয়তো কোনো প্রভাব পড়বে না দেশটির আচরণে, তবু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলো এর নেতিবাচক দিকগুলো মোকাবিলার ব্যাপারেও প্রস্তুত। তিনি এ সময় সুন্নি অধ্যুষিত জিসিসি দেশগুলোকে আরো অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যাপারে প্রতিশতি দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে সৌদি আরবে আলোচনা শুরু হবে।
অপর দিকে, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিদ আল আত্তিয়াহ বলেন, জিসিসির দেশগুলো বিশ্বাস করে, ইরানের সঙ্গে বিশ্ব শক্তিগুলোর সম্পাদিত পরমাণু চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলকে আরও নিরাপদ করবে।
গত মাসে ইরানের পরমাণু ইস্যুতে দেশটির সঙ্গে চুক্তির সমঝোতায় পৌঁছায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের স্থায়ী পাঁচ সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন এবং জার্মানি। চুক্তি অনুযায়ী ইরান তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি হ্রাস করবে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
