সাম্প্রতিক সময়ে গাড়ি হ্যাকিংয়ের বড় দুইটি ঘটনায় গাড়ি মালিকদের মধ্যে গাড়ি হ্যাকিং নিয়ে শংকা বাড়ছে। নতুন গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই শংকা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কেলি ব্লু বুকের এক জরিপে সম্প্রতি এমন তথ্যই উঠে এসেছে। কেলি ব্লু বুকের এই জরিপে বলা হয়েছে, বড় বড় দুইটি গাড়ি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় গাড়ি মালিকদের মধ্যে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি বিষয়ে আগের তুলনায় সচেতনতা অনেকটাই বেড়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭১ শতাংশ অংশগ্রহণকারীই জানিয়েছে যে তারা গত মাসের জিপ চিরোকি হ্যাকিংয়ের ঘটনা সম্পর্কে অবগত। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়্যারড এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা প্রকাশ করে দেয়। এই ঘটনায় ১৪ লক্ষেরও বেশি কার ও ট্রাক ফেরত নিয়েছিল জিপ। এদিকে জরিপে অংশ নেওয়া তিন-চতুর্থাংশ ব্যক্তিই মনে করেন যে আগামী তিন বছরের মধ্যে গাড়ি হ্যাকিংয়ের ঘটনা খুব সাধারণ এবং নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। গত জুলাই মাসের ২৪ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে ১,১৩৪ জনের মধ্যে পরিচালিত হয় এই জরিপ। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ ব্যক্তি জানান, নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে তারা সাম্প্রতিক সময়ের এসব গাড়ি হ্যাকিংয়ের ঘটনাকে বিবেচনায় রাখবেন। গাড়িতে পরিচালিত সাইবার আক্রমণকে ৩৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ‘ভয়াবহ (serious)’ এবং ৩৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ‘মোটামুটি গুরুত্বপূর্ণ (moderate)’ সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ ব্যক্তিই ‘দুষ্টামিকে (pranking)’ গাড়ি হ্যাকিংয়ের পিছনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আর ৩৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী অবশ্য এর পেছনের কারণ হিসেবে চুরিকে দায়ি করেছেন। মজার বিষয় হলো—৫৮ শতাংশ মানুষই মনে করেন যে গাড়ি হ্যাকিংয়ের এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান বের করা সম্ভব হবে না। জরিপে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ ব্যক্তিই মনে করেন যে ফিয়াট ক্রিসলারের গাড়িতে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে। জেনারেল মটোরসের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ৪৭ শতাংশ। অন্য কোনো গাড়ি নির্মাতার ক্ষেত্রে এই শংকা ৩০ শতাংশের বেশি মানুষের মধ্যে নেই। গাড়ি হ্যাক হয়ে গেছে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ব্যক্তিই ডিলার প্রতিষ্ঠানের থেকে প্যাচ ইনস্টল করে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। জরিপে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে কেলি ব্লু বুক গাড়ি নির্মাতাদের প্রতি সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন প্রযুক্তিকে গাড়িতে ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বেশিরভাগ ব্যক্তিই এমন সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করলেও গাড়ি ব্যবহারকারী বড় একটি অংশই সুরক্ষার নিশ্চয়তা পেলে তার জন্য অর্থ খরচের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।
