ছোট্ট শরীরে আঘাতের ৫৭ চিহ্ন

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৫, ০১:২১

ছোট্ট শরীরে ৫৭টি আঘাতের চিহ্ন। শরীরের কোন জায়গা আঘাত থেকে রক্ষা পায়নি। এমনকি শিশুটির চোখের নিচে কালচে দাগ। চোখের দুই কোনা দিয়ে অশ্রু ঝরতে ঝরতে কালো দাগের চিহ্ন দুই গালে এসে ঠেকেছে। কত কষ্টই না পেয়েছে আট বছরের শিশুটি। কি নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে তার সঙ্গে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কম্পাউন্ডে নার্সিং কলেজের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা লাগেজের ভেতর থেকে গত সোমবার রাত ১টা ২০ মিনিটে উদ্ধার করা হয় আট বছরের ওই শিশুটির লাশ। এখনো মেলেনি তার পরিচয়। কে তার বাবা, কে তার মা! কোথায় ছিল শিশুটি, কার তত্ত্বাবধানে ছিল কী-ই বা করতো কিছুই এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। আর তার পরিচয় জানতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দেশের সবকটি থানায়  বার্তা পাঠিয়েছে।

 
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, সব থানায় বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে শিশুটির বর্ণনা দিয়ে প্রচার চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সহায়তাও নিচ্ছে পুলিশ। যেহেতু শিশুটির পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না তাই আমরা এ কৌশল অবলম্বন করেছি। ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি কারো বাসায় কিংবা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো। সে শিশু শ্রমিক হতে পারে বলেই মনে হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, যেখানে লাগেজের ভেতরে করে শিশুটিকে ফেলে রাখা হয়েছিল সেখানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিছু কিছু পয়েন্টে সিসিটিভি থাকলেও ওই এলাকায় নেই। আট বছরের এই শিশুটির শরীরে কোনো স্থানই নির্যাতন থেকে বাদ পড়েনি। তার পিঠে, দুই হাতে, কব্জিতে, পায়ে, মাথায়, চোয়ালে, আঙ্গুলে, ঘাড়ে সর্বত্র আঘাত আর আঘাত। পিঠে ও পায়ে ঘা হয়েছিল; যা ফুলে ফুলে গেছে। হাতের আঙ্গুলে নির্যাতনের ফলে দাগ পড়েছে। গরম পানি দিলে যেমন চামড়া উঠে যায় পিঠের অংশে তেমনটিই দেখেছেন ময়না তদন্তকারী চিকিত্সকরা।
 

শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, মনে হচ্ছিল শিশুটিকে অনেক আগে থেকে নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের পর তার চিকিত্সা বাসাতেই করা হয়েছিল। একপর্যায় শিশুটির মৃত্যু হলে এভাবে ফেলে দিয়ে যায় ঘটনায় জড়িতরা। তিনি বলেন, শিশুটিকেও ঠিক মত খেতেও দেয়া হতো কী না সন্দেহ। কারণ, সুরতহালের সময় দেখা গেছে তার শরীর কিছুটা কঙ্কালসার হয়ে গেছে। বুকের সঙ্গে পেট একাকার হয়ে গেছে।