পরিবেশ নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৫, ০১:৩৯

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পরিবেশ নিয়ে দেশের জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে বলেছেন, এখন দেশের মানুষ বায়ু দূষণ, পানি দূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছে। তিনি বলেন, উন্নত দেশ থেকে আমরা অভিজ্ঞতা নিতে পারি ঠিকই, কিন্তু আমাদের সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে। এ জন্য সমস্যা সমাধানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে।

 
গতকাল বুধবার ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্স স্টাডিজ (বিসিএএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডেভেলপমেন্টের (আইসিসিসিএডি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এ কথা বলেন। ডেইলি স্টারের সেমিনার রুমে আয়োজিত ওই সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল ‘ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট— চ্যালেঞ্জ ফর বাংলাদেশ।’
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের ধারণা আমাদের দেশে নতুন। তবে এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দিন দিন এ সমস্যা বড় হচ্ছে।  তবে সবকিছুর দায়-দায়িত্ব সরকারের একার নয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো আমাদের মতো দেশের সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। তারা এসে আমাদের সমস্যার সমাধান করে দিয়ে যাবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে উন্নত দেশগুলোরও নানা এজেন্ডা থাকে। তাদের উন্নয়ন এবং উত্পাদন বন্ধ রেখে আমাদের সহায়তা করতে পারে না। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, সারাবিশ্বের পরিবেশ দূষণের জন্য আমরা তিন শতাংশেরও কম দায়ী। উন্নত দেশগুলো পরিবেশ দূষণ করছে সবচেয়ে বেশি। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় বাজেট বেড়ে হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। কিন্তু সে তুলনায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বাজেট আগের মতোই আছে। আমাদেরকে আমাদের সমস্যাগুলো নিজস্ব পদ্ধতিতে সমাধান করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের মতো চিন্তা করলে হবে না। সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজটি অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি উদ্যোগে করা হয়। এ ক্ষেত্রে সেসব উন্নত দেশ থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। আমাদের দেশেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যক্তি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। 
 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোঃ জহিরুল হক বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে প্রচুর বিদেশি অর্থ আসছে। বিদেশিদের বাদ দিয়ে দেশীয় বিশেষজ্ঞ দিয়ে এ কাজগুলো করাতে হবে।
 
বিসিএএসের নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান বলেন, আমাদের মতো অর্থনীতির দেশগুলো যে পরিমাণ বর্জ্য তৈরি করে আমরা তার চেয়ে অনেক বেশি করি। কিন্তু এ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো প্রস্তুতি আমাদের নেই।
 
সেমিনারে তিনটি নিবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। একটি নিবন্ধে নওরিন শাফিনাজ বলেন, বাংলাদেশে গত তিন বছরে সাড়ে ৬ কোটি মোবাইল ফোন সেট আমদানি করা হয়েছে। কম্পিউটার মনিটর এসেছে সাড়ে ১২ হাজার। আর এয়ার কন্ডিশনার আমদানি হয়েছে তিন লাখ ৯১ হাজার। এ থেকে অনুমান করা যায় আমরা কী পরিমাণ বর্জ্য তৈরি করছি।
 
ড. মমিনুল ইসলাম শরীফ বলেন, আমরা কী পরিমাণ বর্জ্য তৈরি করি তার কোনো হিসাব নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজটি করতে গেলে এ সংক্রান্ত হিসাব তৈরি করা জরুরি।
 
রাশনা রাহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিধিমালা তৈরি করার চেষ্টা হলেও তাতে আমরা সফল হইনি। এই বিধিমালা তৈরি খুবই জরুরি।
 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— আইসিসিসিএডির পরিচালক ড. সালিমুল হক এবং ‘ডেইলি স্টারের ডিফেন্স এন্ড স্ট্র্যাটেজিক এডিটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহেদুল আনাম খান।