ফেলানীর পরিবার চাইলে পুনর্বিচারের উদ্যোগ নেবে বিএসএফ: বিজিবি

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৫, ২৩:৫৫

সীমান্তে নিহত ফেলানী খাতুনের পরিবার চাইলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী ফের এ হত্যাকাণ্ডের পুনর্বিচারের উদ্যোগ নেবে বলে বিএসএফের মহাপরিচালকের বরাত দিয়ে বিজিবি জানিয়েছে।

 
বৃহস্পতিবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সোমবার ভারতের নয়া দিল্লিতে শুরু হওয়া সীমান্ত সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ের পাশাপাশি ফেলানী হত্যকাণ্ডের বিচার নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। 
 
“ফেলানী ইস্যুতে বিএসএফ মহাপরিচালক বিজিবি মহাপরিচালককে অবহিত করেন যে, নিম্ন আদালত কর্তৃক ইতিমধ্যে ঘোষিত রায় এখনো বিএসএফ মহাপরিচালক অনুমোদন করেননি। যদি ফেলানীর পরিবার ইতিমধ্যে নিম্ন আদালত ঘোষিত রায় সংক্ষুব্ধ হয় এবং বিএসএফকে তা অবহিত করে তাহলে বিএসএফ নতুন বিচারকদের সমন্বয়ে নতুনভাবে আদালত গঠনপূর্বক বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে ডিজি বিজিবিকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে ফেলানীর বাবা এবং তাদের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে বিজিবির পক্ষ পদক্ষেপ নেয়া হবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে।
 
চার বছর আগে কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ থেকে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে অব্যাহতি দিয়ে গত জুলাইয়ে রায় দেয় বিএসএফের একটি বিশেষ আদালত। ওই রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম। ‘ভারত সরকার বিচারের নামে তামাশা করেছে’ বলে রায়ের খবর শুনে বলেছিলেন তিনি। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ রামখানা ইউনিয়নের বানার ভিটা গ্রামের নুরুল ইসলাম প্রায় ১০ বছর ধরে দিল্লিতে ছিলেন। সেখানে তার সঙ্গেই থাকতো ফেলানী।
 
দেশে বিয়ে ঠিক হওয়ায় ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে ফেরার পথে কাঁটাতারের বেড়ায় কাপড় আটকে যায় ফেলানীর। এতে ভয়ে চিত্কার দিলে বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করে এবং পরে লাশ নিয়ে যায়।
 
কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে বাংলাদেশ সরকার ও মানবিকার সংস্থাগুলোর কড়া প্রতিবাদে বিচারের ব্যবস্থা হলেও ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিএসএফের আদালত আসামি অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয়।
 

ফেলানীর পরিবারের আপত্তিতে বিএসএফ মহাপরিচালক রায় পুনর্বিবেচনার আদেশ দিলে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নতুন করে শুনানি শুরু হয়। কিন্তু পুনর্বিচারে একই আদালত তাদের পুরনো রায় বহাল রাখে।