২৩ আগস্ট লতিফ সিদ্দিকীর ভাগ্য নির্ধারণ!

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৫, ০০:৩৮

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে আগামী ২৩ আগস্ট শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওইদিন সকাল ১১টায় ইসির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য শুনানিতে লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এ লক্ষ্যে আগামী রবিবার বাদী-বিবাদী (লতিফ সিদ্দিকী-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) পক্ষকে চিঠি পাঠাবে কমিশন।

 
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক ইত্তেফাককে বলেন, শুনানিতে উভয়পক্ষের বক্তব্যের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
 
আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে দীর্ঘ ৯ মাস আগে দল থেকে বহিষ্কারের পর গত ৭ জুলাই জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দিয়ে তা অবহিত করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। চিঠিটি পর্যালোচনা করে স্পিকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তার বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত ১৩ জুলাই চিঠি দেন। সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে ২ আগস্টের মধ্যে জবাব চেয়ে গত ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও আওয়ামী লীগকে চিঠি পাঠায়। নির্ধারিত সময়ের শেষদিনে উভয়পক্ষ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের জবাব দেয় ইসিতে। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ এবং বহিষ্কার হওয়া নেতার জবাব পর্যালোচনা করে কমিশন আগামী ২৩ আগস্ট তাদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।
 
এদিকে, লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদে থাকা না থাকা নিয়ে ইসির একাধিক ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা বলেছেন, সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী তার পদ না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ হিসেবে তারা বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন না হলেও দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় তার এমপি পদ থাকার কথা নয়। কারণ সংবিধানের ৬৬(২) ছ অনুচ্ছেদে বলা আছে, এ আইন ব্যতীত অন্য কোন আইনে অর্থাত্ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও)র ১২(১) ও খ অনুযায়ী তিনি এমপি ইহবার বা থাকিবার জন্য যোগ্য নন। তবে এর আগে অস্টম জাতীয় সংসদ থেকে বিএনপির আবু হেনা ও নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার হন এইচ এম গোলাম রেজা। তবে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে নিয়মিত অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন ওই দুই সংসদ সদস্য। এ প্রসঙ্গে ইসির আইন বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘তখন এ দুই জনের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে স্পিকারের কাছ থেকে সিইসি বরাবর কোন চিঠি দেয়া হয়নি। এজন্য তাদের পদ বহাল ছিল। তবে লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে দল তাকে বহিষ্কার করেছে, স্পিকারকে তা অবহিত করেছে এবং জাতীয় সংসদের তার আসন শূন্য করার এখতিয়ার না থাকায় কমিশনকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার সিইসিকে চিঠি দিয়েছেন।
 
তারা আরো জানান, সপ্তম সংসদে বিএনপি সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামানের সংসদ সদস্য পদও একই পদ্ধতিতে বাতিল করা হয়েছে।
 
ইসির সচিব বরাবর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও), ১৯৭২-এর ১২(১) ধারা এবং জাতীয় সংসদের কার্য-প্রণালী বিধির ১৭৮ বিধি উল্লেখ করে বলা হয়, যেহেতু তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেহেতু তার এমপি পদে থাকার আইনগত অধিকার নেই। আর লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, আওয়ামী লীগ থেকে সদস্য পদ বাতিল করার এখতিয়ার দলের কেন্দ্রীয় সংসদের নেই। আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে আমাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটাই ভুল ব্যাখ্যার উপরে ভিত্তি করে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিতর্ক নিষ্পত্তি সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে দাবি করেন তিনি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে সদস্যপদ বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত স্পিকারকে জানানো হবে। আসন শূন্য করতে স্পিকারের অনুরোধ পেলে উপ-নির্বাচনের পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে ইসি।
 

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় লতিফ সিদ্দিকী হজ, তাবলিগ জামায়াতসহ অন্যান্য বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এরপর প্রথমে মন্ত্রিসভা থেকে এবং পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে।