বিচারপতিদের অপসারণ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৫, ০০:৪৮

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি বলেছেন, জাতীয় সংসদের হাতে বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংক্রান্ত সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা তা দেখতে হবে? কারণ ৭২’র সংবিধানে বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত ছিল। তিনি বলেন, এই সংশোধনী বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে কিনা সেটাও  দেখতে হবে? যদি তা না করে তাহলে এই সংশোধনীকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বিশেষ বেঞ্চে গতকাল বৃহস্পতিবার রুলের উপর এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে আজমালুল হোসেন কিউসি এ শুনানি করেন। আগামী ১৩ আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন আজমালুল হোসেন কিউসি তার অসমাপ্ত শুনানি শেষ করবেন। শুনানিকালে রিটকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু উপস্থিত ছিলেন।

 
প্রসঙ্গত ১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে অর্পণ করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা দেয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা পুনরায় সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। বিলটি পাসের পর গত ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়।
 

দেশের শীর্ষ আইনজীবী এবং সংসদের বাইরের বিরোধী দলগুলো এ সংশোধনী প্রত্যাখান করে। সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ৯ আইনজীবী হাইকোর্টে এই রিট আবেদন দায়ের করেন। হাইকোর্ট এই সংশোধনী  কেন অবৈধ, বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করে। গত ২১ মে রুলের উপর শুনানি শুরু হয়। ওইদিন শীর্ষ ৫ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসিকে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।