বন্ধ হচ্ছে সড়ক-মহাসড়কের আশেপাশে যত্রতত্র পশুর হাট, বর্জ্য নিক্ষেপ আর পরিবেশ দূষণের মতো বেশকিছু কাজ। এ জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগে অনুষ্ঠিত এক আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় উল্লেখযোগ্য কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুুল মালেক এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জনসাধারনের চলাচলে বাধা তৈরি করে এমন সব জায়গায় যাতে পশুর হাট বসতে অনুমতি দেয়া না হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুশাসন অনুযায়ী গত বছর ২৩ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল স্থানীয় সরকার বিভাগ আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা করে।
সভায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য এলাকায় কোরবানির পশু জবেহ করার জন্য উন্মুক্ত স্থান নির্ধারণ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিদের নিয়ে জনসচেতনাও তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। এবার সড়ক-মহাসড়কের পাশে কোরবানির হাট বসানোর কোন অনুমতি দেয়া যাবে না। সিটি করপোরেশন এলাকায় জবেহকারীদের তালিকাও তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, রেলপথ ও নৌপথ ব্যবহারের সময় মলমূত্র সরাসরি নদীতে ও রেলপথে পড়ছে। এতে ভীষণভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এজন্য ট্রেন ও নৌযান থেকে সরাসরি পয়:বর্জ্য খোলাস্থানে না ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। ট্রেন ও নৌযানে পয়:বর্জ্য সংরক্ষণে কনটেইনার রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়। পরে কনটেইনার থেকে উপযুক্ত স্থানে পয়:বর্জ্য ডাম্পিং করা হবে।
সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয়, পয়:বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নির্বাচন এবং তা ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হবে। নৌ-রেলপথের স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনায় সরকারের নীতিমালা অনুসরণে আদেশ জারি এবং স্যানিটেশন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিরূপনে সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ পাইলট প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
