বিএনপি-জামায়াতের ৫ শতাধিক নেতাকর্মীর আওয়ামী লীগে যোগদান

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৫, ১৭:৪৬
 
খুলনার কয়রা উপজেলায় বিএনপি-জামায়াতের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। এদের মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতা মামলার বেশ কয়েকজন আসামি রয়েছে বলে দলের মধ্য থেকে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এই যোগদানকে কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতা আগামী ইউপি নির্বাচনে জয়লাভের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
 
রবিবার বেলা ১১টায় কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কয়রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জিয়াদ আলী সরদারের সভাপতিত্বে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কয়রা সদর ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড থেকে ৫৩০ জন বিএনপি-জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থক আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
 
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম মোহসীন রেজা, বিশেষ অতিথি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মহেশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিজয় কুমার সরদার, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মোস্তফা রফিকুল ইসলাম সানা, কয়রা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান এস. এম শফিকুল ইসলামসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
 
এছাড়া কয়রা ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলা কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী ওলামা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
 
সকাল ১০টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ও নাশকতা মামলার আসামিদের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা যোগদান অনুষ্ঠানের মঞ্চে আসেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যোগদানকৃত জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মীদের তালিকা থেকে রাষ্ট্রদ্রোহী ও নাশকতা মামলার আসামির নাম বাদ দিলেও তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ নেতারা জানান।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবীণ নেতা এই যোগদান সম্পর্কে বলেন, ‘মামলা থেকে বাঁচার জন্য বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। তাদের অভিযোগ কতিপয় নেতা আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই যোগদান করিয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জি.এম মোহসীন রেজা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের ৫৩০ জন কর্মী-সমর্থক আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। তবে নাশকতা এবং রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় যারা জড়িত তাদের আওয়ামী লীগে যোগদান করানো হয়নি। আমার প্রতিপক্ষরা বিষয়টি ভিন্নভাবে প্রচার করতে পারে।
 

এ বিষয়ে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ জানান, তিনি এই যোগদানের বিষয়ে কিছুই জানেন না। তবে কেউ যদি রাষ্ট্রদ্রোহী ও নাশকতা মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াতের কাউকে আওয়ামী লীগে যোগদান করিয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।