পাকিস্তানে লোমহর্ষক শিশু নির্যাতন: গ্রেফতার ৭

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৫, ২১:২৭
 
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পাঞ্জাবের একটি গ্রামে বছরের পর বছর ধরে শিশুদের যৌন নির্যাতন, ভিডিও ধারণ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নির্দেশের পর জড়িতদের ধরতে জোরালো অভিযান শুরু হয়েছে।
 
কসুর জেলার হুসেইন খানওয়ালা গ্রামে প্রায় ২৮০ শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন ও তার ভিডিও ধারণের অভিযোগে বিক্ষোভে নামে স্থানীয় জনতা। এ ঘটনায় ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাথমিক অভিযোগও দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সকাল পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ঘটনার মূল হোতা হাশেম আমির (২৫) রয়েছেন।
 
IMG0
 
এ ঘটনায় গত সপ্তাহে ২০ টি ভিডিও জব্দ ও ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। নির্যাতিতদের পরিবারগুলো অভিযোগ আমলে না নেয়ার অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
 
গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন, ৪শ’ থেকে ৫শ’ শিশু তাদের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে, একটি চক্র হিসেবে তারা নিয়মিত এ ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। ১৪ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ করে তা ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়।
 
সম্প্রতি পুলিশ চক্রটির ধারণ করা ১৫০ টি ভিডিও ক্লিপের খোঁজ পায়। অর্থের বিনিময়ে ভিডিও ক্লিপগুলো বাইরে বিক্রি করে দেয়া হতো বলেও জানা গেছে। মানসম্মানের ভয়ে এতদিন চুপ করে থাকা অনেক ভুক্তভোগীই তাদের নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, অনেক সময় তাদের একে অপরের সঙ্গে যৌন মিলন করতে বাধ্য করা হতো। এ কারণে অনেক ভিডিওতে মূল অপরাধীদের উপস্থিতি নেই। অনেক সময় শিশুদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করা হতো বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এবং তাদের স্বজনরা।
 
এদিকে  শত শত শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে - এমন একটি প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তার তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শরিফ। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি যেসব ভিডিও প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, শিশুদেরকে যৌনকাজে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকি তাদের পরিবারকে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
 
প্রদেশটির শিশু রক্ষা ব্যুরোর প্রধান সাবাহ সাদিক শিশুদের এভাবে অপব্যবহারের ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং মারাত্মক ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। সূত্র: বিবিসি