রাজন হত্যা মামলার চার্জশিট ৭২ ঘন্টার মধ্যে: আইনমন্ত্রী

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৫, ২০:২০

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আনিসুল হক বলেছেন, সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে দাখিল করা হবে।

বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়াল-২০১৪’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নারী-শিশুদের জন্য ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, যে কারণে এ মামলার বিচারে নতুন করে ট্রাইব্যুনাল গঠনের দরকার নেই। এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলাম পলাতক থাকার বিষয়ে এক প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি পলাতক থাকলেও বিচার প্রক্রিয়া শুরুর ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হ ও নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক খান মো. আব্দুল মান্নান।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই সিলেট শহরতলীর কুমারগাঁওয়ে চোর অপবাদ দিয়ে দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক নির্মম নির্যাতন ও বর্বরোচিতভাবে পিটিয়ে খুন করা হয় ১৩ বছরের শিশু রাজনকে। হত্যার পর মাইক্রোবাসে করে লাশ গুমের চেষ্টাকালে মুহিত আলম (৩২) নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। পুলিশ মুহিত আলমকে প্রধান আসামি করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে। মামলার অপর আসামিরা হচ্ছে মুহিত আলমের ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না (৪৫)। আসামি কামরুল ইসলাম ঘটনার পরপরই সৌদি আরবের জেদ্দায় চলে যায়। সেখানেই তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে এ আসামি সেখানেই আটক রয়েছে।

শিশু রাজনকে পেটানোর ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে নির্যাতনকারীরাই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিওচিত্র প্রকাশ হলে দেশ-বিদেশে তোলপাড় ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। রাজনকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মুহিত আলম ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়াও মামলার আসামি চৌকিদার ময়না মিয়া, নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ, নির্যাতনে সহায়তাকারী দুলাল আহমদসহ আটককৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

এছাড়াও এ ঘটনার পর সংশ্লিস্ট থানা পুলিশের গাফিলতির বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। রাজন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের মাইক্রোবাসচালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে।