অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১২২টি দেশকে জিএসপির (অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা) আওতায় আনা হলেও সেখানে বাংলাদেশ নেই। মার্কিন সরকারকে স্বচ্ছতার সাথে জানাতে হবে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থাটি কী। তিনি বলেন, ‘হাতি, ঘোড়া গাধা সবাইকে জিএসপি সুবিধা দেয়া হলো বাংলাদেশ ছাড়া’।
গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর উদ্যোগে তৈরি পোশাক শিল্পের কমপ্লায়েন্স বিষয়ে এক সংলাপে সিপিডির চেয়ারম্যান এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, যেসব দেশ জিএসপি সুবিধা পেল সেসব দেশের শ্রম মান, কর্মপরিবেশ বাংলাদেশের চেয়েও উন্নত কি না, তা নিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে। সস্তা শ্রমের কারণে পোশাক খাতে আমরা প্রতিযোগিতা করছি। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর এখাতের নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অন্য দেশের সবাই সোচ্চার হয়েছে। এখাতের উদ্যোক্তারা ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় করতে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, সেটি অর্জন করতে চাইলে সেভাবে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি আমাদের ন্যায্য পাওনা, এটি না দেয়ার কোন কারন নেই।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেই সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, আমাদের দেশে পোশাক খাতের উত্পাদনকারীদের মুনাফার হার খুবই কম। এ আয় থেকে কমপ্লায়েন্স এর জন্য ব্যয় করা কঠিন। এটি করতে গেলে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো কঠিন হবে। তাই কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে বিদেশি ক্রেতা ও দেশি উদ্যোক্তাদের একসাথে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে শ্রম সচিব মিখাইল শিপার, ওপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান সিনহা, মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক প্রমুখ বক্তব্য দেন।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ বলেন, কারখানা কমপ্লায়েন্সের সাথে সাথে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।
