রোবটের হাতে তৈরি হচ্ছে নতুন রোবট!

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৫, ০৪:৪৫

গত কয়েক বছরে এসে রোবট তৈরিতে নতুন গতি এসেছে। একটা সময় পর্যন্ত বড় বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোই কেবল রোবট নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করলেও এখন রোবট তৈরির জন্য ছোট ছোট স্টার্ট-আপও গড়ে উঠতে শুরু করেছে। রোবটিক্স নিয়ে গবেষণা আরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় এখন রোবটে যুক্ত হতে শুরু করেছে নানা ধরনের ফিচার। মানবাকৃতির রোবট থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজের জন্য বিশেষায়িত রোবটও এখন তৈরি হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে শিল্প কারখানার জন্য শ্রমিক রোবট।

 

তবে এবারে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা রোবটের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী এক উদ্ভাবন প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা এমন একটি রোবট তৈরি করেছেন, যে রোবটটি নিজে থেকেই ছোট ছোট রোবট তৈরি করতে পারে। শুধু তাই নয়, নতুন তৈরি রোবটগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এগুলোর মধ্যে কোনোটিতে ত্রুটি খুঁজে পেলে তাকেও আলাদা করে ফেলতে পারে মূল রোবট। মূল রোবটটিকে বলা হচ্ছে ‘মাদার রোবট’ এবং তার তৈরি রোবটগুলোকে বলা হচ্ছে ‘শিশু রোবট’।

 

এক অর্থে এটি রোবটের স্বনিয়ন্ত্রিত বংশবিস্তার প্রক্রিয়ার সূচনাই করলো। গবেষকরা জানিয়েছেন, মাদার রোবটটি চলাফেরা করতে সক্ষম এবং তাকে প্রাথমিকভাবে শিশু রোবট তৈরি ও সেগুলো পরীক্ষা করার মতো নির্দেশনা প্রদান করা আছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী মাদার রোবটটি পরবর্তীকালে মানুষের সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই এক থেকে পাঁচটি কিউব ও মোটর ব্যবহার শিশু রোবট তৈরি করতে পারে। শুধু তাই নয়, একেকবারে তৈরি শিশু রোবটগুলোর ডিজাইন বিশ্লেষণ করে সে পরবর্তী সময়ে এর চাইতেও উন্নততর রোবটের ডিজাইনও করতে সক্ষম। ক্যামব্রিজের গবেষকরা যে মাদার রোবটটি তৈরি করেছেন সেটি কয়েকটি ধাপে ১০টি শিশু রোবট তৈরি করে। এর মধ্যে প্রথমবারে তৈরি রোবটের তুলনায় সবশেষে তৈরি রোবটটি দ্বিগুণ পরিমাণ চলাচল করতে সক্ষম হয়েছে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফুমিয়া ইডার নেতৃত্বে এই গবেষণায় জুরিখের এথ ইউনিভার্সিটির কয়েকজন গবেষকও সংশ্লিষ্ট রয়েছেন।

 

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি জানান, জীবন্ত কোনোকিছু সময়ের সাথে কীভাবে বিকশিত হয়, সেটা বুঝার জন্যই তারা এই গবেষণাটি পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, ‘জীববিজ্ঞানে বড় একটি প্রশ্নই হলো কীভাবে বুদ্ধিমত্তার বিকাশ হয়েছে। রোবটিক্স দিয়ে আমরা এই রহস্য বুঝার একটি চেষ্টা করে যাচ্ছি। রোবটরা সাধারণত নির্দিষ্ট ধরনের কাজ করার উপযোগী হলেও আমরা এমন রোবট তৈরি করার চেষ্টা করছি যারা উদ্ভাবনী ও সৃজনশীলতা প্রদর্শন করতে সক্ষম।’ এই ধরনের গবেষণা সফল হলে ভবিষ্যতে হয়তো কারখানার জন্য এমন রোবট তৈরি করা যাবে যেগুলো নিজে থেকেই ওই কারখানায় উত্পন্ন পণ্যগুলো যাচাই-বাছাই করতে পারবে। সায়েন্স ফিকশনগুলোতে এমন ধরনের রোবটের দেখা মিললেও বাস্তবে এমন রোবটের দেখা আগামী ৩০ বছরেও মিলবে না বলে মনে করেন তিনি।’