প্রাণহীন প্রাণীর কারিগর সাতক্ষীরার সুরেশ পান্ডে। সামান্য কাঠমিস্ত্রী থেকে আজ তিনি খ্যাতিমান ভাস্কর্য শিল্পী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের গুলিতে নিহত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৭ জন শহীদের ভাস্কর্য তৈরি করেছেন তিনি। যেগুলো আগামী ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ইচ্ছা ব্যক্ত করেন সুরেশ।
সাতক্ষীরা শহরের অদূরে বিসিক শিল্প নগরীতে সুরেশ গড়ে তুলেছেন তার এসব শিল্পকর্মের কারখানা। যার নাম পান্ডে ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ। সাতক্ষীরার মোজাফ্ফর গার্ডেন, যশোর ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকায় রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টেনমেন্টসহ দেশের বিভিন্ন পিকনিক স্পটে শোভাবর্ধন করছে তার নান্দনিক ভাস্কর্য।
জানা যায়, ১৯৬২ সালে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুরেশ পান্ডে। বাবা সূর্য কান্ত পান্ডে ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রী। দারিদ্র্যের কারণে খুব বেশি লেখা পড়া হয়নি সুরেশ পান্ডের। জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাবার পেশার সূত্র ধরে শুরু করেন কাঠমিস্ত্রির কাজ।
IMG0
১৯৯৬ সালে ৩০ নভেম্বর তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে কাঠে খোঁদাইকৃত জাতির পিতার একটি প্রতিকৃতি তুলে দিয়ে তিনি ভাস্কর্য শিল্পী হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। এরপর তিনি সংকল্প করেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের গুলিতে নিহত বঙ্গবন্ধুসহ ১৭ শহীদের আবক্ষ নির্মাণ করবেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে নিরলস পরিশ্রম করে এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে তার তিনি এই আবক্ষ ভাস্কর্য নির্মাণ করেন।
ভাস্কর্যগুলো নির্মাণ করা হয়েছে ফাইবার ক্লাস দিয়ে। যা দুই এক হাজার বছরেও নষ্ট হবে না বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি পেলে আগামী ১৫ আগস্টে এই আবক্ষগুলো তারই হাতে তুলে দিতে চান এবং ৩২ নং ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিধুর জাদুঘরে এই ভাস্কর্যগুলো রাখার দাবি করেন তিনি।
একই সাথে তিনি বলেন, দেশের সবকয়টি বিভাগীয় যাদুঘরে ভাস্কর্যগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তিনি তা সরবরাহ করবেন।
