চীনের বন্দরনগরী তিয়ানজিনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা ৫০জনে দাঁড়িয়েছে। ঘটনায় ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম। উদ্ধারকার্য সংক্রান্ত সরকারি দফতরের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ কথা জানায়।
চীনের বন্দরনগরী তিয়ানজিনের একটি রাসায়নিক গুদামে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ৪৪ জন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন অগ্নিনির্বাপণকর্মীও রয়েছেন বলে জানানো হয়। এছাড়াও আরো ৩৬ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
বন্দরনগরী তিয়ানজিনে বুধবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে পর পর দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণ দুটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ১০ কিলোমিটার দূর থেকেও এর শকওয়েভ অনুভূত হয়। এছাড়াও মহাশূন্য থেকেও বিস্ফোরণটি দেখা যায়। প্রথম বিস্ফোরণটির শক্তি ছিল তিন টন টিএনটির (ট্রাই নাইট্রো টলুইন) সমান। আর পরেরটির শক্তি ছিল ২১ টন টিএনটির মতো। বিস্ফোরণে চারপাশের বহু ভবন এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকগুলোতে ফাটল দেখা গেছে।
সিনহুয়া জানায়, তিয়াজিন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে এক হাজার অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও ১৪৩টি ফায়ার ব্রিগেডের ইউনিট পাঠায়। ঘটনাস্থলে দুই শ আর্মড পুলিশ উপস্থিত রয়েছে এবং সেখানে রাসায়নিক যুদ্ধ দমনের বিশেষ বাহিনী পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন বিস্ফোরণের পর আগুনের কু্ণ্ডলী রাতের আকাশকে একেবারে আলোকিত করে তোলে। বহু দুর থেকে যা দেখা গেছে। অনেকে ভেবেছেন ভূমিকম্প হচ্ছে। বহু মানুষজন আতংকে বাইরে ছুটছিলেন।
ওদিকে দিনের আলো ফোটার পর বোঝা যাচ্ছে চারপাশে বেশ কিছু ভবন গুড়িয়ে গেছে। দুমড়ে মুচড়ে পড়ে রয়েছে বহু কন্টেইনার। সকালেও আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। আশপাশে বিশাল এলাকা জুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শহরের হাসপাতালগুলো আহতদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এক টুইটার বার্তায় বিস্ফোরণে আহতদের উদ্ধার এবং অগ্নি নির্বাপণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে তিয়ানজিন কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে সম্ভাব্য পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হবে এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। দুর্ঘটনাস্থলের আশেপাশে পরিবহন সান্ধ্যআইন বলবত থাকবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
বৃহস্পতিবার সকালে তিয়ানজিন কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে সম্ভাব্য পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হবে এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। দুর্ঘটনাস্থলের আশেপাশে পরিবহন সান্ধ্যআইন বলবত থাকবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
