জাতীয় শোক দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৫, ০৯:৩৯


জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধূর ও কলঙ্কজনক অধ্যায়। জাতির পিতার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল ‘সোনার বাংলা’ গড়ার। আমাদের দায়িত্ব হবে বঙ্গবন্ধুর অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ করে দেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করে জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণ করা। যতদিন এ দেশ ও জনগণ থাকবে ততদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নাম এ দেশের লাখো-কোটি বাঙালির অন্তরে চির অমলিন ও অক্ষয় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী, সাহসী এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। বাঙালি পেয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু যখন সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী চক্র জাতির পিতাকে হত্যা করে।

ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ বাঙালি জাতির অন্তরে প্রোথিত হয়ে আছে। আসুন, আমরা জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে তার স্বপ্ন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করি। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এ সংগ্রামে আমাদের অবশ্যই জয়ী হতে হবে।

শোক দিবসে জেপির বাণী

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশপ্রেমের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর একজন রাজনীতিক, অপূর্ব সাংগঠনিক ক্ষমতার অধিকারী এক ব্যক্তিত্ব এবং বাঙালি নামক জাতির স্রষ্টা। দেশ ও জনগণের কল্যাণে, শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি ছিলেন সবসময়ই অগ্রগণ্য। দেশবাসীর অধিকার রক্ষায় তিনি ছিলেন অতন্দ্র প্রহরী। সেদিন তাই ঘাতক চক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে কেবল একজন মহামানবকেই হত্যা করেনি, হত্যা করেছিল তার আদর্শ। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে যে, মহামানবের আদর্শকে হত্যা করা যায় না। বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রেও এ কথা সত্য। তারা সেদিন ব্যক্তি মুজিবকে হত্যা করতে পারলেও মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিবকে হত্যা করতে পারেনি। নেতৃদ্বয় বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে কলংকতম অধ্যায়ই নয়, করুণতম অধ্যায়ও বটে।

সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ব হয়ে নেতৃদ্বয় বিনম্র শ্রদ্ধায় ও অকৃত্রিম ভালোবাসায় বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণ করে বলেন, যে নেতার জন্ম না হলে আজ বাংলাদেশ স্বাধীন হতো কিনা সন্দেহ, তার শাহাদাত বার্ষিকীতে সমগ্র জাতি আজ তাকে স্মরণ করবে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসায়। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কমনা করি এবং তার মতো দেশপ্রেমের অগ্নীমন্ত্রে নিজেদের দিক্ষিত করি। যতদিন এই স্বাধীন বাংলা থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকবেন। কারণ বাংলাদেশ, স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু সমার্থক।

দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি: এদিকে জাতীয় শোক দিবস পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি (জেপি) দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সকাল সাড়ে ৬টায় দলের সকল কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার মাজার জিয়ারত করবেন। সকাল ৭টায় জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এছাড়াও জাতীয় পার্টি-জেপি’র পক্ষ হতে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে।

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন জেপি চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। আলোচনা সভায় জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।